📌 শাবানার হাত ধরে গোপনে বসে থাকা ছেলেটি হেড স্যার করীমের কাছে ভালোবাসার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। সিগারেটের কৌতূহল থেকে শুরু করে ফুটবল আঘাতের পর চিকিৎসা পর্যন্ত — স্যারের শিক্ষা ও দায়িত্ববোধের গল্প ৩৭ বছর পরও মনে আছে লেখকের
ছোটবেলায় স্কুলের পেছনের আমগাছের আড়ালে শাবানার হাত ধরে বসে থাকা ছেলেটি হেড স্যার করীমের কাছে ভালোবাসার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। সেই ঘটনাটি থেকে শুরু করে সিগারেটের কৌতূহল থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া, ফুটবল আঘাতের পর রক্তাক্ত ছেলেকে বাঁচিয়ে দেওয়া — হেড স্যার করীমের শিক্ষা ও দায়িত্ববোধের গল্প ৩৭ বছর পরও লেখকের মনে জাগ্রত আছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্কুলের পেছনের আমগাছের আড়ালে শাবানার হাত ধরে বসে থাকা ছেলেটিকে হেড স্যার করীম সতর্ক করে বলেন, ‘ভালোবাসা অন্যায় নয়, কিন্তু তোদের এই বয়স ভালোবাসার নয়’
- 📌 সিগারেটের কৌতূহল থেকে বাঁচিয়ে দেওয়ার সময় স্যার বেত দিয়ে মারার বদলে বলেন, ‘ব্যথা পেয়েছিস? তোদের মারলে আমারই কষ্ট হয়’
- 📌 ৩৭ বছর পরও লেখক সিগারেট ছুঁইনি — স্যারের শিক্ষার প্রভাব এখনও টিকে আছে
- 📌 ফুটবল খেলায় নাক ফাটিয়ে রক্ত ঝরতে থাকা বন্ধু রিপনকে স্যার নিজে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলে
- 📌 গরিব স্কুলে ফান্ডের টাকা না থাকায় স্যার নিজের টাকা দিয়ে ছাত্রদের খাবার দিতেন
📰 বিস্তারিত
লেখক বলেন, স্কুলের পেছনের আমগাছের আড়ালে শাবানার হাত ধরে বসে থাকা ছেলেটি হেড স্যার করীমের কাছে ভালোবাসার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। স্যার শান্ত গলায় বলেছিলেন, ‘ভালোবাসা অন্যায় নয়; কিন্তু তোদের এই বয়স ভালোবাসার নয়’। সেই কথার পরই লেখক শাবানাকে বলেছিলেন, ‘এখন আর নয়, তুমি তোমার পথ দেখো’। শাবানার জবাব ছিল ‘বেইমান’ — কিন্তু ছোটবেলার সেই মারামারি বেশিক্ষণ টেকেনি।
সিগারেটের কৌতূহল থেকে বাঁচিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি ছিল আরেকটি শিক্ষা। লেখক গোপনে সিগারেট আনেন। এক বন্ধু বেইমানি করে খবর দিলে স্যার হাতেনাতে ধরলেন। কিন্তু স্যার চিৎকার করেননি, বরং বেত দিয়ে মারার বদলে বললেন, ‘ব্যথা পেয়েছিস? তোদের মারলে আমারই কষ্ট হয়’। তারপর সুন্দর করে বুঝিয়ে বললেন, সিগারেট কেন খারাপ। সেই ঘটনার পর ৩৭ বছর কেটে গেছে, লেখক আর সিগারেট ছুঁইনি।
স্যার শুধু শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন অভিভাবক। একদিন বন্ধু রিপন ফুটবল খেলতে গিয়ে নাক ফাটিয়ে ফেলল। রক্ত ঝরছিল। রিপনের বাবা লাঠি হাতে এসে ছেলেকে মারতে উদ্যত হলে স্যার আগলে রাখলেন। চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তবেই বাড়ি পাঠালেন। সেই দায়িত্ববোধের কথা লেখক বলেন, ‘স্যার শুধু শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক’।
গরিব স্কুলে ফান্ডের টাকা থাকত না। স্যার নিজের টাকায় মুড়ি-চানাচুর কিনে ছাত্রদের খাওয়াতেন। খাবার সামান্য হলেও সেই স্বাদ আজও লেখকের জিভে লেগে আছে। স্যার খুব কমই মারতেন; ভয় দেখাতেন, বুঝিয়ে বলতেন। গাছ লাগিয়ে শিক্ষা দিতেন — ‘অকারণে কখনো গাছ কাটবি না, একটি পাতাও ছিঁড়বি না’।
"ব্যথা পেয়েছিস? তোদের মারলে আমারই কষ্ট হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: স্কুলের পেছনের আমগাছ ও নারকেল গাছের আড়াল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হেড স্যার করীম, লেখক, শাবানা, বন্ধু রিপন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৭ বছর (সিগারেট ছুঁইনি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!