📌 নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল। নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেওয়া, ক্লাস ফাঁকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন শিশু শিক্ষার্থীরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবালকে থামিয়ে তারা বিদ্যালয় ছুটির নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষার্থীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া, নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, ক্লাস চলাকালে ঘুমানো ও মোবাইলে ফেসবুক ব্যবহারের অভিযোগ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন শিশু শিক্ষার্থীরা
- 📌 নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া, ক্লাস ফাঁকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ
- 📌 ইউএনও রাসেল ইকবালকে থামিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অভিযোগ জানান
- 📌 বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজল রানী পাল জানান, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আগে ছুটি দেওয়া হয়েছিল
- 📌 উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
রোববার (১৬ আগস্ট) চরঈশ্বর ইউনিয়নের কয়েকটি রাস্তার উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে যাচ্ছিলেন ইউএনও রাসেল ইকবাল। দক্ষিণ রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখেন, অনেক শিক্ষার্থী বাড়ির দিকে যাচ্ছে। বিষয়টি দেখে তিনি গাড়ি থামিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে যান এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী ইউএনওকে জানায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে তারাও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা জানিয়েছে, শিক্ষকেরা তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজল রানী পাল বলেন, ‘পরদিন থেকে বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। তাই শিক্ষার্থীরা আগে ছুটি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই নির্ধারিত সময়ের একটু আগে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের ক্লাস ফাঁকি দেওয়া ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমি আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, ‘নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে আমি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শনে বের হয়েছিলাম। ওই বিদ্যালয়ের সামনেও একটি রাস্তা ছিল। সেখানে যাওয়ার পর ছাত্রছাত্রীরা আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়েছিল। তখন তাদের অভিযোগগুলো শুনি। পরে তাদের নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে কোনো শিক্ষককে পাইনি। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তা ও তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়ে আমরা অবহিত হয়েছি। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। কৈফিয়ত পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা জানিয়েছে, শিক্ষকেরা তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ রাজের হাওলা, হাতিয়া উপজেলা, নোয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউএনও রাসেল ইকবাল, প্রধান শিক্ষক কাজল রানী পাল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ (আগস্ট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!