📌 অভাবের সংসারে থেকেও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া চার শিক্ষার্থীর গল্প উঠে এসেছে প্রথম আলোর বিশেষ আয়োজনে। তাদের স্বপ্ন চিকিৎসক ও সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়া হলেও কলেজের খরচ জোগাতে পারছেন না পরিবারগুলো
অভাবের সংসারে থেকেও অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া চার শিক্ষার্থীর জীবনের গল্প উঠে এসেছে প্রথম আলোর বিশেষ আয়োজনে। তাদের সাফল্য যেমন আনন্দের, তেমনি কলেজের ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ জোগাতে না পারার দুশ্চিন্তাও গ্রাস করছে পরিবারগুলোকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যশোরের ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের হাজিরা আক্তার মিতু এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন
- 📌 নীলফামারীর খাটুরিয়া ধনীপাড়া গ্রামের মুসফিকুর রহমান জিপিএ-৫ পেয়ে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন
- 📌 রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার নাদিয়া আফরিন জিপিএ-৫ পেয়ে সব প্রতিকূলতা জয় করেছেন
- 📌 চার শিক্ষার্থীর পরিবারই কলেজের খরচ জোগাতে পারছেন না বলে উদ্বিগ্ন
📰 বিস্তারিত
প্রথম আলোর বিশেষ আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে স্থান পেয়েছে চার শিক্ষার্থীর জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া এই শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাদের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ: কলেজের ভর্তি ফি, বইপত্র ও যাতায়াত খরচ জোগানো।
হাজিরা আক্তার মিতু যশোরের কেশবপুর উপজেলার ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তার পরিবারের একমাত্র আয় হলো বাবা হোসেন আলীর ইটভাটায় কাজ ও মা শরিফা বেগমের মাছ ধরা। বছরের অধিকাংশ সময় গ্রামটি পানিতে তলিয়ে থাকায় কাজের অভাব লেগেই থাকে। হাজিরা নিজেও টিউশনি করে ও মাকে মাছ ধরায় সহযোগিতা করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চাই, কিন্তু কলেজের খরচ কীভাবে জোগাব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার খাটুরিয়া ধনীপাড়া গ্রামের মুসফিকুর রহমানের পরিবারও একই সংকটে রয়েছে। তার বাবা মো. আবদুল কাদের গরু বেচাকেনার কাজ করেন। মুসফিকুর বলেন, ‘সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখি, কিন্তু কলেজে ভর্তি হওয়ার সামর্থ্য নেই।’ তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সহিদুল ইসলাম জানান, মুসফিকুরকে বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ছুট লক্ষ্মীপুর গ্রামের নাদিয়া আফরিনের পরিবারেও তিন বেলা খাবার জোটানো কষ্টকর। তার বাবা কেরামত আলী দিনমজুরি করে সংসার চালান। নাদিয়া বলেন, ‘পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল বলেই সব প্রতিকূলতা জয় করতে পেরেছি।’
‘অনেক দিন খাবার জোটেনি। প্রায়ই মেয়েকে না খেয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে। আমরা নিজেরা না খেয়ে সন্তানদের খাইয়েছি।’ — শরিফা বেগম, হাজিরা আক্তারের মা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর, নীলফামারী, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাজিরা আক্তার মিতু, মুসফিকুর রহমান, নাদিয়া আফরিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫ (৪ বার), ১০ ঘণ্টা (পড়াশোনা), ৫ থেকে ১০ শতক (জমির পরিমাণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!