📌 মৌলভীবাজারের হাওরপার গ্রামের অর্পনা রানী সরকার স্বামীর অসুস্থতা ও চিকিৎসা খরচের কারণে সংসার কষ্টে পড়েন। ঋণ নিয়ে ছোট দোকান খোলার মাধ্যমে তিনি সংসার চালিয়ে দিয়েছেন এবং দুই মেয়ের পড়াশোনা নিশ্চিত করেছেন
মৌলভীবাজারের মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপার গ্রামের অর্পনা রানী সরকার (৪০) স্বামীর অসুস্থতা ও চিকিৎসা খরচের কারণে সংসার কষ্টে পড়েছিলেন। কিন্তু তিনি ঋণ নিয়ে ছোট দোকান খোলার মাধ্যমে নিজের জীবন ও দুই মেয়ের পড়াশোনা উভয়ই নিশ্চিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অর্পনা রানী সরকার (৪০) স্বামীর পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের খরচে বাড়ির দুটি গরু বিক্রি ও সঞ্চয় শেষ হয়ে যাওয়ার পর সংসার কষ্টে পড়েন।
- 📌 ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ঘরের একপাশে ছোট দোকান খোলেন তিনি, যা বর্তমানে মাসে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা আয় করছে।
- 📌 দুই মেয়ের পড়াশোনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দোকান থেকে আয়েই সংসার চালাচ্ছেন অর্পনা। বড় মেয়ে এসএসসি পাস করেছেন, ছোট মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়েন।
- 📌 ৮০-৮৫টি পরিবারের এই গ্রামে কৃষিজীবী অধিকাংশ মানুষের মধ্যে অর্পনার দোকান জনপ্রিয়।
- 📌 অর্পনা স্বপ্ন দেখেন দোকানটি আরও বড় করার, কিন্তু ঋণ ছাড়া কোনো সহযোগিতা পেলে সড়কের পাশে নতুন দোকান খুলবেন।
📰 বিস্তারিত
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি ইউনিয়নের ইটা বড়বাড়ি গ্রামে বসবাসকারী অর্পনা রানী সরকারের স্বামী জিতেন্দ্র সরকারের পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়লে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি বাড়ির দুটি গরু বিক্রি করেন এবং সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যায়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক স্বামীকে ভারী কাজ থেকে বিরত থাকতে বললে সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। দুই মেয়ের পড়াশোনা নিশ্চিত করার জন্য অর্পনা একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ঘরের একপাশে ছোট দোকান খোলেন।
দোকান শুরুতে সহজ ছিল না। অর্পনা বলেন, ‘শুরুতে ছয়-সাত মাস লোকসান দিয়েছি। কিন্তু আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে গেছে। এখন দোকান ভালো চলছে। এই দোকানের আয়েই আমার সংসার চলছে এবং মেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছি।’ দোকানে শুরুতে লবণ, মরিচ, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রাখতেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে পণ্যের সংখ্যা বাড়িয়ে দেন। শহর থেকে স্বামীর মাধ্যমে পণ্য আনতেন। বর্তমানে মাসে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা আয় হয় অর্পনার। গ্রামের মানুষ তাঁর দোকান থেকেই প্রয়োজনীয় পণ্য কেনেন এবং বাকি টাকা পরে পরিশোধ করেন।
অর্পনা বলেন, ‘আমি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। হিসাব-টিসাব আগে বুঝতাম না, কিন্তু এখন হিসাব করতে পারি। দোকানটিকে আরও বড় করার ইচ্ছা আছে, কিন্তু ঋণ ছাড়া কোনো সহযোগিতা পেলে সড়কের পাশে নতুন দোকান খুলবো।’
"দেখলাম, অচল অই যাইমু। বাইচ্চাইনতোরে (দুই মেয়েকে) লেখাপড়া করাইতাম পারতাম নায়। তখনই দোকান দেওয়ার কথা মাথাত আইছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মৌলভীবাজার সদর উপজেলা, কাউয়াদীঘি ইউনিয়ন, ইটা বড়বাড়ি গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্পনা রানী সরকার (৪০), জিতেন্দ্র সরকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ হাজার টাকা ঋণ, মাসে ৫-৬ হাজার টাকা আয়, ৮০-৮৫টি পরিবার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!