📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, প্রাধ্যক্ষ তাঁকে দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা পদত্যাগ দাবিতে রাতভর বিক্ষোভ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুন বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদে রাতভর হল কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অভিযোগকারী শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম রোববার দুপুরে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে নিয়ে তাঁর মুঠোফোন জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়
- 📌 প্রায় দেড় ঘণ্টা তাঁকে হলের আসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকিসহ ভয়ভীতি দেখানো হয়
- 📌 প্রাধ্যক্ষের স্টাফরা তৈরি করা লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়, যেখানে হল সংসদের নেতাদের প্ররোচনার কথা উল্লেখ ছিল
- 📌 প্রাধ্যক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থী তাঁর বিরুদ্ধে ‘ভুল তথ্য’ প্রচার করছিলেন
- 📌 রাত ৯টার পর থেকে হল কার্যালয়ের সামনে পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা
- 📌 শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করেও তা প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ তোলেন
📰 বিস্তারিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম রোববার দুপুরে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনের কক্ষে ডেকে নিয়ে তাঁর মুঠোফোন জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন। ইব্রাহীম জানান, তিনি সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এর জেরে প্রাধ্যক্ষ তাঁকে ডেকে নিয়ে তাঁর ফোন দিতে অস্বীকার করলে স্টাফরা তা জোরপূর্বক কেড়ে নেন। তিনি কক্ষ থেকে বের হতে চাইলে দরজায় তালা আটকে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন।
ইব্রাহীমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় ঘণ্টা তাঁকে হলের আসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে প্রাধ্যক্ষের স্টাফরা তাঁকে একটি লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন। ওই বক্তব্যে উল্লেখ ছিল যে হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএসের প্ররোচনায় তিনি প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখি করেছেন।
প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থী তাঁর সম্পর্কে ‘ভুল তথ্য’ প্রচার করছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষার্থী কথোপকথন রেকর্ড করছিলেন বুঝতে পেরে তাঁর ফোনটি বের করতে বলা হয়। পরে শিক্ষার্থী নিজেই রেকর্ড করা অংশ মুছে দেন। প্রাধ্যক্ষের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীর মাকে ফোন করে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীর মা অসুস্থ থাকায় বিষয়টি ‘মিটমাট হয়ে গেছে’ বলে জানানো হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৯টার পর থেকে হল কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ সময় ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের নির্বাচিত নেতা-কর্মী, ডাকসুর নেতা-কর্মী ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হল সংসদ ও ডাকসুর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করেন। তবে প্রাধ্যক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করেন বলে অভিযোগ তোলেন প্রতিনিধিরা।
"ফেসবুকে ওই পোস্ট দেওয়া শিক্ষার্থীকে না পেয়ে তাঁকেই ডেকে আনা হয়েছে বলে প্রাধ্যক্ষ জানিয়েছেন। এমনকি ওই শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করে ‘শায়েস্তা’ করার কথাও বলা হয়েছে বলে দাবি করেন ইব্রাহীম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফজলুল হক মুসলিম হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুন (প্রাধ্যক্ষ), মো. ইব্রাহীম (অভিযোগকারী শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দেড় ঘণ্টা (আটকে রাখার সময়), ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!