📌 নওগাঁর বদলগাছীতে আউশ ধানের চারা রোপণের সময় সার সংকটের মধ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজল সরকারের বিরুদ্ধে অনৈতিক চাপের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, সরকারি বরাদ্দের সার কিনতে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে এবং একটি সিন্ডিকেট অতিরিক্ত দাম আদায় করছে। কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন
নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় আউশ ধানের চারা রোপণের মৌসুমে সার সংকটের মধ্যে কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা সজল সরকার অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছেন। কৃষকদের দাবি, সরকারি বরাদ্দের সার কিনতে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে এবং একটি সিন্ডিকেট কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫০ বস্তা সার দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজল সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে। মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ করিম আলমের মতে, কর্মকর্তা তাদের ম্যানেজারকে ফোন করে ৫০ বস্তা সার দিতে বলেছেন।
- 📌 সার সংকটের পেছনে সিন্ডিকেটের হাতখড়ি কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের সার কিনতে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সার পাওয়া নিয়ে ভোগান্তি এবং উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
- 📌 সার ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সংখ্যা উপজেলায় বিসিআইসি ডিলার ১০ জন, বিএডিসি ডিলার ১৯ জন এবং ৭২টি ওয়ার্ডে ৭২ জন খুচরা সার বিক্রেতা রয়েছেন।
- 📌 সার চাহিদা ও সরকারি নির্ধারিত দাম বদলগাছীতে বছরে ইউরিয়া সারের চাহিদা ৬ হাজার ২৯০ মেট্রিক টন, টিএসপির ১ হাজার ৬১৮ মেট্রিক টন, ডিএপির ৪ হাজার ১০০ মেট্রিক টন এবং এমওপির ২ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন। সরকারি নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রতি কেজি ২৭ টাকা, ডিএপি প্রতি কেজি ২১ টাকা এবং এমওপি প্রতি কেজি ২০ টাকা।
- 📌 কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার কর্মকর্তা সজল সরকার বলেছেন, তিনি চাপ প্রয়োগ করেননি, তবে সুযোগ থাকলে সার দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
📰 বিস্তারিত
নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় আউশ ধানের চারা রোপণের মৌসুমে সার সংকটের মধ্যে কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের সার সরবরাহের কথা থাকলেও বাজারে নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকদের দাবি, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি সিন্ডিকেট কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করছে।
মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ করিম আলমের অভিযোগ, গত ১৩ সেপ্টেম্বর কর্মকর্তা সজল সরকার তাদের ম্যানেজারকে ফোন করে বলেছেন, একজন যাবে, তাকে ৫০ বস্তা সার দিতে হবে। তবে তিনি সার দেব না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। মাসুদ করিম আলমের কথায়, ঘটনার পর থেকে কৃষি অফিস বিভিন্ন বিষয়ে তাদের ওপর চাপ দিচ্ছে।
সদর ইউনিয়নের কৃষক নাসির, টগর ও হারুন বলেছেন, সার নিতে ডিলারের কাছে গেলেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। জমি চাষের সময় সার খুঁজতে ডিলারের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেছেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং দ্রুত সার সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেবেন। তবে সজল সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
উপজেলা সার ও বীজ কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেছেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তার সার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের কাজে জড়িত থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
"আমি চাপ প্রয়োগ করিনি। বলেছি, যদি সুযোগ থাকে, তাহলে যেন ৫০ বস্তা সার দেওয়া হয়।"
"সার নিতে ডিলারের কাছে গেলেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। জমি চাষের সময় সার খুঁজতে ডিলারের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বদলগাছী উপজেলা, নওগাঁ জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সজল সরকার (উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা), মাসুদ করিম আলম (মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক), নাসির, টগর, হারুন (কৃষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বস্তা সার, ১০ জন বিসিআইসি ডিলার, ১৯ জন বিএডিসি ডিলার, ৭২টি ওয়ার্ডে ৭২ জন খুচরা বিক্রেতা, ৬ হাজার ২৯০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ১ হাজার ৬১৮ মেট্রিক টন টিএসপি, ৪ হাজার ১০০ মেট্রিক টন ডিএপি, ২ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন এমওপি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!