📌 বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন আয়োজন করেছে আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানে মিতু সরকার ও ফয়জুল হাকিম বক্তব্য দেন এবং উমরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও লেখনীকে তরুণদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতা ও লেখক বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আজ সোমবার বিকেলে আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এই উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সড়কদ্বীপে অবস্থিত স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মিতু সরকার এবং জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও সাবেক ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি ফয়জুল হাকিম বক্তব্য রাখেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বদরুদ্দীন উমরের জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়
- 📌 মিতু সরকার বলেন, বদরুদ্দীন উমর শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামের প্রশ্ন ব্যাখ্যা করেছেন; তরুণদেরকে তাঁর লেখা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এই প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে
- 📌 ফয়জুল হাকিম উল্লেখ করেন, বদরুদ্দীন উমর উপমহাদেশ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয়ে দীর্ঘদিন লিখেছেন; সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরও তিনি সমাজতন্ত্রের প্রশ্নে অবস্থান ধরে রেখেছিলেন
- 📌 প্রদর্শনীতে বদরুদ্দীন উমরের জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও লেখনী নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়; বিকেল থেকেই আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলছিল
- 📌 উমর ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিশ্লেষণে শাসকশ্রেণি ও জনগণের ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন
📰 বিস্তারিত
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে প্রথমে আলোকচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর সন্ধ্যা সাতটার দিকে বদরুদ্দীন উমরের জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে মিতু সরকার বলেন, বদরুদ্দীন উমর তাঁর লেখনী ও বক্তৃতায় শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রাম এবং ক্ষমতার প্রশ্নকে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি শাসনের অবসান ঘটেছে। সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা যেসব তরুণের মধ্যে রয়েছে, তাঁদের বদরুদ্দীন উমরের লেখা ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও সাবেক ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি ফয়জুল হাকিম বলেন, বদরুদ্দীন উমর শুধু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লেখেননি; তিনি উপমহাদেশ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সাম্রাজ্যবাদ, যুদ্ধ এবং সমাজতন্ত্রের প্রশ্নেও দীর্ঘদিন লিখেছেন ও বিশ্লেষণ করেছেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বজুড়ে সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, সে সময়ও বদরুদ্দীন উমর সমাজতন্ত্রের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বদরুদ্দীন উমর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ—ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিশ্লেষণে শাসকশ্রেণি ও জনগণের ভূমিকা নিয়ে ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, বদরুদ্দীন উমর রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি ইতিহাসচর্চাকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। তিনি তাঁর লেখনী ও বক্তৃতায় ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করে জনগণের সংগ্রামের ইতিহাসকে তুলে ধরেছেন। এই প্রদর্শনী উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদেরকে বদরুদ্দীন উমরের রাজনৈতিক জীবন ও লেখনীকে জানানো হয়েছে।
"বদরুদ্দীন উমর তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রাম এবং ক্ষমতার প্রশ্নকে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর লেখনী, বক্তৃতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণসমাজকে পরিচিত করা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিতু সরকার (বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি), ফয়জুল হাকিম (জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী), বদরুদ্দীন উমর (কমিউনিস্ট নেতা ও লেখক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ (বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথম প্রদর্শনী), ৪:৩০ (প্রদর্শনী শুরু সময়), ৭:০০ (প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!