📌 ২৪ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে ৫১ বছর বয়সে তিনি পাস করেন এবং ডাক্তার পদবি পান
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস করেছেন। দীর্ঘ ২৪ বছর বিরতির পর ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার ফলাফলে তিনি সফলতা অর্জন করেন। এখন তিনি নিজের নামে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৫৩ ব্যাচ (সেশন ১৯৯৫-১৯৯৬) এর শিক্ষার্থী ছিলেন এবং এখন কে-৭৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাথে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন
- 📌 ১৯৯৬ সালে ক্লাস শুরু হয়েছিল এবং ২০০২ সালে পাস করার কথা ছিল, কিন্তু ২০২৬ সালে তিনি পাস করেন
- 📌 শিক্ষার্থী জীবনে এক শিক্ষকের সাথে জটিলতার কারণে এবং পারিবারিক সমস্যায় তিনি পড়াশোনা থেমে যায়
- 📌 ২০২৩ সালে উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলুর সাথে দেখা করে আবার ভর্তির আশা প্রকাশ করেন
- 📌 দীর্ঘ বিরতির পর ভর্তির জরিমানা প্রায় দুই লাখ টাকা, যা কমিটি, হাবিবুল্লাহ নিজে এবং তার কে-৫৩ ব্যাচের বন্ধুদের সহায়তায় পূরণ হয়
📰 বিস্তারিত
ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রবেশের প্রাথমিক পর্যায়ে হাবিবুল্লাহ ভালো ফলাফল করছিলেন। তবে একপর্যায়ে একজন শিক্ষকের সাথে তার সম্পর্কে বিরোধ দেখা দেয়, যা তার পড়াশোনায় গুরুতর প্রভাব ফেলে। এছাড়াও পারিবারিক নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে থাকেন এবং ক্রমশ জুনিয়রদের সাথে ক্লাস করার পরিস্থিতিতে পড়েন।
হাবিবুল্লাহর বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ব্যক্তিগত চেম্বারে তিনি রোগীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা ফি নিতেন। স্ত্রী এবং সাত সন্তান নিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল ছিল না, যা পরবর্তীতে হাবিবুল্লাহর জীবনে প্রভাব ফেলেছিল। তার বাবা ২০০০ সালে এবং মা ২০১৬ সালে মারা যান।
২০২৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকাকালীন অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলুর সাথে হাবিবুল্লাহর প্রথম পরিচয় ঘটে। হাবিবুল্লাহ টাবলুকে জানান যে বিভিন্ন জটিলতার কারণে তার পড়াশোনা দীর্ঘদিন থমকে ছিল, কিন্তু তিনি এখন আবার ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শেষ করতে চান।
"২৪ বছর পর এমবিবিএস পাস! চেষ্টা থাকলে কি না হয়!"
এই দীর্ঘ শিক্ষা বিরতির পর ভর্তির জন্য জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ টাকা। অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু তখন স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এই কমিটি, হাবিবুল্লাহ নিজে এবং তার কে-৫৩ ব্যাচের বন্ধুদের সহায়তায় জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ জোগাড় হয়। এরপর একবার বিরতি দিয়ে তিনি এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এবং অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ বছরের বিরতি, ৫১ বছর বয়সে পাস, প্রায় দুই লাখ টাকা জরিমানা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!