📌 চট্টগ্রামে ২৯-৩১ অক্টোবর তিন দিনের জ্যোতির্বিজ্ঞান কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রাথমিক বিষয় থেকে মহাকাশ প্রযুক্তি পর্যন্ত বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় টেলিস্কোপ পর্যবেক্ষণ, স্পেকট্রোস্কোপ তৈরী এবং নোবেলজয়ী গবেষণার আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চট্টগ্রামে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে তিন দিনের বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৯-৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম কলেজ প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই কর্মশালায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০ জন শিক্ষার্থী। ২০ ঘণ্টার এই কর্মশালায় জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রাথমিক বিষয় থেকে শুরু করে মহাকাশ প্রযুক্তি ও চলমান গবেষণার আলোচনা করা হয়। কর্মশালায় শুধু বক্তৃতা শোনা নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল হাতে-কলমে কাজ, কুইজ এবং টেলিস্কোপ পর্যবেক্ষণের সুযোগ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৯-৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম কলেজে অনুষ্ঠিত হয় তিন দিনের জ্যোতির্বিজ্ঞান কর্মশালা, যেখানে অংশ নেন ৩০ জন শিক্ষার্থী
- 📌 কর্মশালায় ২০ ঘণ্টার বিভিন্ন সেশনে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রাথমিক বিষয়, মহাকাশ প্রযুক্তি ও চলমান গবেষণার আলোচনা করা হয়
- 📌 শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল হাতে-কলমে কাজ, যেমন: মঙ্গল গ্রহের রোভার নকশা, স্পেকট্রোস্কোপ তৈরী, সূর্যঘড়ি তৈরি এবং অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফি
- 📌 কর্মশালায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিজ্ঞানী এবং নাসার সদস্যসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ
- 📌 কর্মশালার শেষ দিনে শিক্ষার্থীরা টেলিস্কোপের মাধ্যমে শনি গ্রহ ও অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করেন
- 📌 কর্মশালার মূল আয়োজক ছিল ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নের নক-বিডি টিম এবং সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি ও বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি
📰 বিস্তারিত
কর্মশালার উদ্বোধনী সেশনে আয়োজক সংস্থার সমন্বয়ক আইনুন নওয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞানী অধ্যাপক আব্দুল জব্বারের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর শুরু হয় মূল কর্মসূচি। প্রথম দিনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রাজীব কর্মকার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা ও জ্যামিতির বিষয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে, হাসান মাহমুদ সজীব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাবলি নিয়ে বক্তৃতা দেন।
শাফায়েত রহমান পরিচালিত সেশনে শিক্ষার্থীরা মঙ্গল গ্রহের রোভার নকশা তৈরির কাজে লিপ্ত হন। নাফিসা মুমতাহিন হাতে-কলমে মহাকর্ষ ও কৃষ্ণগহ্বরের ধারণা প্রদান করেন। দিনের শেষ সেশনে সোহানুর রহমান স্টেলারিয়াম সফটওয়্যার ব্যবহার করে মহাকাশের বিভিন্ন দৃশ্য সিমুলেশন এবং নক্ষত্রমণ্ডল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেন।
দ্বিতীয় দিনে কর্মশালা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সুলতানা নাহারের সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব বিষয়ক বক্তৃতা দিয়ে। রওনক শাহরিয়ার সৌরজগৎ নিয়ে আলোচনা করেন। পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনীশ দেবনাথ আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণের মাধ্যমে মহাজাগতিক বস্তু সম্পর্কে জানার পদ্ধতি নিয়ে কথা বলেন। সৈয়দা লামমীম আহাদ গ্যালাক্সি ও গ্যালাক্সি ক্লাস্টার নিয়ে বক্তৃতা দেন এবং ফারিবা নেহরীন বিন্তি গ্যালাক্সির আকৃতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে ধারণা দেন।
তৃতীয় দিনে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের অধ্যাপক বিমান নাথ নক্ষত্রের জন্ম, জীবন ও মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করেন। অনলাইনে যুক্ত হন নাসার সৌর মিশনের সদস্য ও নিউ মেক্সিকো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শাহ মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন। তিনি হেলিওফিজিকস এবং অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার উপযোগী পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন। ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাস এবং ভিনগ্রহের প্রাণ নিয়ে দুটি বক্তৃতা দেন।
মধ্যাহ্নভোজের পর শিক্ষার্থীরা টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূর্য ও সৌরকলঙ্ক পর্যবেক্ষণ করেন। তারা নিজস্বভাবে স্পেকট্রোস্কোপ ও সূর্যঘড়ি তৈরি করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ. কে. এম. রেজাউর রহমান আইসকিউব নিউট্রিনো গবেষণার বিষয়ে আলোচনা করেন। উজ্জ্বল কুমার দেব সৌরজগতের বাইরের গ্রহ নিয়ে আলোচনা করেন। দিনের শেষ সেশনে মেহেদী হাসান তূর্য শিক্ষার্থীদের অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফির ছবি তোলার কৌশল শেখান।
সন্ধ্যা নামার পর শিক্ষার্থীরা টেলিস্কোপের মাধ্যমে শনি গ্রহ এবং এর দুটি উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ করেন। কর্মশালার শেষ দিনে শিক্ষার্থীরা অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করেন। কর্মশালার শেষে আয়োজক সংস্থা কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে এবং বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।
"আমরা চাই শিক্ষার্থীদের জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তোলা। এই কর্মশালায় তারা হাতে-কলমে কাজ করে জ্ঞান অর্জন করেছেন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম কলেজ প্রাঙ্গণ, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল জব্বার, রাজীব কর্মকার, সুলতানা নাহার, শাহ মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন, ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ জন শিক্ষার্থী, ২০ ঘণ্টার কর্মশালা, ২৯-৩১ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!