📌 চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার অসুস্থ শিক্ষার্থী সুমাইয়া খানম ইভানা এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। দেড় মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক অসাধারণ মানসিক শক্তির অধিকারী শিক্ষার্থী সুমাইয়া খানম ইভানা (১৬) এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি পরীক্ষা শেষ করেছেন, যা তার দৃঢ় সংকল্প ও মানসিক শক্তির পরিচয় বহন করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অসুস্থতার কারণে এসএসসি পরীক্ষা শুরুর মাত্র ২০ দিন আগে চাঁদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন সুমাইয়া খানম ইভানা
- 📌 পরীক্ষার সময় তার শরীরে হেপাটাইটিস-বি ধরা পড়ে, সঙ্গে ছিল জ্বর, ঘন ঘন বমি ও প্রচণ্ড দুর্বলতা
- 📌 হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিটি পরীক্ষার আগে চিকিৎসকের কাছ থেকে সাময়িক ছাড়পত্র নিয়ে অটোরিকশায় প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যান তিনি
- 📌 মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন
- 📌 বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম জানান, এবার তাঁর বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৮ জন শিক্ষার্থী
📰 বিস্তারিত
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নবকলস গ্রামের প্রবাসী আমির খান ও গৃহিণী খাদিজা আক্তার দম্পতির মেয়ে সুমাইয়া খানম ইভানা। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। এসএসসি পরীক্ষা শুরুর মাত্র ২০ দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন সুমাইয়া। রক্ত পরীক্ষায় তার হেপাটাইটিস-বি ধরা পড়ে। সঙ্গে ছিল জ্বর, ঘন ঘন বমি ও প্রচণ্ড দুর্বলতা। খাওয়াদাওয়াও প্রায় বন্ধ হয়ে যায় তার।
গত ২১ এপ্রিল প্রথম পরীক্ষা দেওয়ার পর অসুস্থতা আরও বেড়ে গেলে তাকে চাঁদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। হাসপাতালের শয্যায় থেকেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। প্রতিটি পরীক্ষার আগে চিকিৎসকের কাছ থেকে সাময়িক ছাড়পত্র নিয়ে অটোরিকশায় প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যান তিনি। পরীক্ষা শেষ করে আবার ফিরে আসেন হাসপাতালের শয্যায়।
সুমাইয়া জানান, পরীক্ষার সময় তার শরীর খুব দুর্বল ছিল। তবু পরীক্ষা শেষ করার ইচ্ছা ছিল তার। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি পরীক্ষা শেষ করে আবার হাসপাতালে ফিরে যেতাম। শরীর খুব দুর্বল ছিল। তবু পরীক্ষা শেষ করার ইচ্ছা ছিল।’
সুমাইয়ার বাবা আমির খান বিদেশে থাকেন। মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। তবে চিকিৎসা ও পরীক্ষার পুরো সময়ে মেয়ের পাশে ছিলেন মা খাদিজা আক্তার। তিনি বলেন, ‘মেয়ের খুব ইচ্ছা ছিল পরীক্ষা দেওয়ার। ওর মানসিক শক্তির কারণে অসুস্থ শরীরেও সব পরীক্ষা শেষ করেছে।’
মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম বলেন, এবার তাঁর বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২০৫ জন শিক্ষার্থী। পাস করেছে ১৬৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন। পাসের হার প্রায় ৮১ শতাংশ। তিনি সুমাইয়ার হার না মানা মানসিকতার প্রশংসা করেন।
‘প্রতিটি পরীক্ষা শেষ করে আবার হাসপাতালে ফিরে যেতাম। শরীর খুব দুর্বল ছিল। তবু পরীক্ষা শেষ করার ইচ্ছা ছিল।’ — সুমাইয়া খানম ইভানা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মতলব দক্ষিণ উপজেলা, চাঁদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুমাইয়া খানম ইভানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০৫ (পরীক্ষার্থী), ১৬৫ (পাস), ১৮ (জিপিএ-৫)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!