📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ৩৩টি দাবির মধ্যে ১৮টি অপূর্ণ রয়েছে। আবাসন, পরিবহন ও নিরাপত্তার মতো মূল সমস্যা সমাধান হয়নি। সভাপতি মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, বাজেটের সীমাবদ্ধতা ও প্রকল্প প্রক্রিয়ার কারণে অগ্রগতি ধীর
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের তরঙ্গ বাড়ছে। নির্বাচনের আগে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ ৩৩টি মূল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এক বছর পর দেখা গেছে এর মধ্যে ১৮টি অপূর্ণ রয়েছে। আবাসনসংকট, পরিবহন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও নারীবান্ধব ক্যাম্পাসের মতো শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িত মূল সমস্যা সমাধান হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাকসু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ৩৩টি দাবির মধ্যে ১৮টি বাস্তবায়িত হয়নি, ১০টি পুরোপুরি ও ৫টি আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
- 📌 আবাসনসংকটের সমাধানে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ১০ শতাংশ বাড়ানোর কথা ছিল, কিন্তু মাত্র ১৯৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য আসন বাড়ানো হয়েছে।
- 📌 পরিবহন ব্যবস্থায় শাটল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি, শাটল ট্র্যাকার অ্যাপও চালু হয়নি।
- 📌 চাকসুর ২২২টি ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১০৭টি অপূর্ণ রয়েছে, পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ৬০টি।
- 📌 উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, বাজেটের সীমাবদ্ধতা ও প্রকল্প প্রক্রিয়ার কারণে অগ্রগতি ধীর।
📰 বিস্তারিত
চাকসু নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ ৩৩টি ইশতেহার দিয়েছিল। নির্বাচিত হলে ১২ মাসের মধ্যে এসব সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এক বছর পর দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িত মূল প্রতিশ্রুতিগুলোর বড় অংশই অপূর্ণ রয়ে গেছে।
আবাসনসংকটের সমাধানে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছিল, বিদ্যমান হল সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হবে এবং অন্তত ১০ শতাংশ আসন বাড়ানো হবে। কিন্তু এক বছর পর মাত্র তিনটি হলের বর্ধিত অংশ সংস্কার করে মাত্র ১৯৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। এতে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো হোস্টেলের সুযোগ পাচ্ছেন না।
পরিবহন ব্যবস্থায় শাটল ট্রেনের সংখ্যা ও বগি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। প্ল্যাটফর্ম আধুনিকায়ন ও দ্বিতীয় রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি। শাটল ট্র্যাকার অ্যাপ চালু করার কথাও ছিল, কিন্তু তা এখনো ব্যবহারে আসেনি।
চাকসুর সভাপতি ও উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর চাকসুকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে আবাসনসংকটের মতো বড় সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। আমরা ডিপিপি জমা দিয়েছি, সেগুলো এখন বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার আরেকটি ডিপিপিও শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট পাঁচটি হল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।’
বাজেটের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চাকসু প্রায় ৮ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছিল, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে পুরো অর্থ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে চাকসুর চাহিদা ও প্রাপ্ত বরাদ্দের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে।
"আমরা ডিপিপি জমা দিয়েছি, সেগুলো এখন বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার আরেকটি ডিপিপিও শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট পাঁচটি হল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আল-ফোরকান (সভাপতি ও উপাচার্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩টি প্রতিশ্রুতি (১৮টি অপূর্ণ), ২২২টি ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি (১০৭টি অপূর্ণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!