📌 চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি স্কুলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বইয়ের উৎসবের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা বই কেনার জন্য ভিড় করে, লেখকদের সাথে সাক্ষাত ও অটোগ্রাফ নেওয়ার আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে। অভিভাবকরা সন্তানদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য এই আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বইয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের পরিচায়ক হয়ে দাঁড়ায় চট্টগ্রামের একটি স্কুলের প্রাঙ্গণ। বইয়ের স্টল ঘিরে শিক্ষার্থীরা, অভিভাবকরা এবং শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে বই কেনার আনন্দ উপভোগ করছেন। এই আনন্দময় দৃশ্য দেখা যায় চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের সিলভার বেলস কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড গার্লস হাইস্কুল-এ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিলভার বেলস স্কুল এবং প্রথমা প্রকাশন যৌথভাবে বই উৎসবের আয়োজন করে; উৎসব সুপারমার্কেট সহযোগিতা করে
- 📌 সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের ভিড়ে মুখর স্কুল প্রাঙ্গণ; বইয়ের মলাট দেখার জন্য কেউ কেউ দাঁড়িয়ে আছে, কেউ পড়ছেন
- 📌 সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইপ্সিতা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বই পড়লে নিজের জগৎ কল্পনা করা যায়; আজ পছন্দের বই কিনেছেন
- 📌 সদ্য এসএসসি উত্তীর্ণ মাওয়া সিদ্দিকী বিশ্বজিৎ চৌধুরীর দুটি উপন্যাস কিনে অটোগ্রাফ নেন; স্কুলে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প-উপন্যাস পড়ার জোর দেওয়া হতো
- 📌 অভিভাবকরা সন্তানদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য স্কুলের এই আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন
- 📌 লেখক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, বই পড়ার অভ্যাস ছোটবেলায় তৈরি হলে তা জীবনের চিন্তাভাবনা পাল্টে দেয়
- 📌 প্রধান শিক্ষক বিভা ইন্দু বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহের প্রমাণ এই বই উৎসবের আয়োজন
📰 বিস্তারিত
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চট্টগ্রামের হালিশহরের সিলভার বেলস কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড গার্লস হাইস্কুল প্রাঙ্গণে বইয়ের টানে শিক্ষার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে। বইয়ের স্টল ঘিরে শিক্ষার্থীরা, অভিভাবকরা এবং শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে বই কেনার আনন্দ উপভোগ করছেন। এই আয়োজনটি প্রথমা প্রকাশন এবং স্কুলের যৌথ উদ্যোগে এবং উৎসব সুপারমার্কেট এর সহযোগিতায় করা হয়েছে।
সকাল থেকেই স্কুলের প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। কারও হাতে গল্পের বই, কারও হাতে কিশোর উপন্যাস। কেউ পছন্দের বইয়ের মলাট দেখছেন, কেউ স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন বই কেনার জন্য। অভিভাবকরা মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে ব্যস্ত বই বাছাইয়ে। প্রিয় লেখকের বই কেনার অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে স্কুল প্রাঙ্গণটি মুখর হয়ে উঠেছে।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইপ্সিতা জান্নাতুল ফেরদৌস বাবা ও ছোট বোনকে নিয়ে এসেছিলেন বই উৎসবে। তার পছন্দ গল্প ও কিশোর উপন্যাস। তিনি বলেন, ‘বই পড়লে নিজের মতো করে একটা জগৎ কল্পনা করা যায়। তাই গল্পের বই পড়তে আমার ভালো লাগে। আজ পছন্দের কয়েকটা বই কিনেছি।’ তার মতো অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই বই উৎসব শুধু বই কেনার সুযোগ নয়, প্রিয় লেখকদের বই একসঙ্গে দেখার আনন্দও। বন্ধুদের সঙ্গে বই নিয়ে আলোচনা, একে অপরকে পছন্দের বই দেখানো—সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে স্কুলজুড়ে।
সদ্য এসএসসি উত্তীর্ণ মাওয়া সিদ্দিকী বিশ্বজিৎ চৌধুরীর দুটি উপন্যাস কিনে অটোগ্রাফ নেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্কুলে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প–উপন্যাস, কবিতা–ছড়া পড়ার প্রতি জোর দেওয়া হতো। এই ধরনের বই উৎসবের আয়োজন করায় পছন্দের বই কেনা সহজ হয়েছে।’
অভিভাবকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সন্তানের পছন্দের বই খুঁজে দিতে স্টলে ভিড় করছিলেন তাঁরা। কেউ বই কিনে দিচ্ছেন, কেউ আবার সন্তানকে বই বেছে নিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। হাসান ফরহাদ তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে আলিজা হাসানকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন উৎসবে। তিনি বলেন, ‘এখন বাচ্চাদের হাতে সব সময় মোবাইল বা অন্য কোনো ডিভাইস থাকে। বই পড়ার কথা বললে অনেক সময় আগ্রহ দেখায় না। কিন্তু এমন আয়োজন হলে তারা নিজেরাই বই দেখতে আসে, পছন্দ করে, কিনতে চায়। এটা আমাদের জন্য খুব আনন্দের।’
প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া অনসূয়া নন্দিনীর পিতা অনুপম শীল বলেন, শুধু পরীক্ষার বই পড়লেই তো হবে না। গল্প, উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস—বিভিন্ন ধরনের বই পড়লে বাচ্চাদের চিন্তাভাবনার পরিধি বাড়ে। তিনি আরও বলেন, ‘তাই এমন আয়োজন আরও হওয়া দরকার।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বই পড়ার আগ্রহ কমে গেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে পরিবারের বড়দের ভূমিকা জোর দেন। তিনি বলেন, ‘আজকের উৎসবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি মন ভালো করে দেওয়ার মতো। একটি বই মানুষের জীবনের চিন্তাভাবনা ও মূল্যবোধও পাল্টে দিতে পারে। ছোটবেলায় বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হলে সেটি অনেক দূর পর্যন্ত যায়। বই উৎসবের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের সেই অভ্যাস তৈরিতে উৎসাহিত করে।’
প্রধান শিক্ষক বিভা ইন্দু বলেন, এ ধরনের বই উৎসব আয়োজনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও প্রচুর উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল। তিনি বলেন, ‘এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
"বই পড়ার অভ্যাস ছোটবেলায় তৈরি হলে তা জীবনের চিন্তাভাবনা পাল্টে দেয়। বই উৎসবের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের সেই অভ্যাস তৈরিতে উৎসাহিত করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলভার বেলস কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড গার্লস হাইস্কুল, হালিশহর, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশ্বজিৎ চৌধুরী, বিভা ইন্দু, ইপ্সিতা জান্নাতুল ফেরদৌস, মাওয়া সিদ্দিকী, হাসান ফরহাদ, অনুপম শীল
- 📌 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১টি বইয়ের স্টল, ২টি উপন্যাস (বিশ্বজিৎ চৌধুরীর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!