📌 মজার ইশকুলের প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ান আরিফ প্রথম আলো ও প্রাইম ব্যাংকের পডকাস্ট শো ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ’-এ অংশ নিয়ে বলেছেন, পথশিশুদের জীবনকে শিক্ষা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন। তিনি রুমির আত্মত্যাগ ও জাহানারা ইমামের লেখা থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন
মজার ইশকুলের প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ান আরিফ প্রথম আলো ও প্রাইম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’ পডকাস্ট শোতে অংশ নিয়ে বলেছেন, পথশিশুদের জীবনকে শিক্ষা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘অনেক শিশু রাস্তায় থাকে, কারণ তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার মতো কেউ নেই। তাদের খাবার, পোশাক ও নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন। তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার খাবার। এরপর পড়াশোনাকে আনন্দময় করে তোলা, যাতে শিশুরা চাপ অনুভব না করে। পাশাপাশি এমন প্রযুক্তিগত দক্ষতা শেখানো, যা দিয়ে তারা ভবিষ্যতে আয় করতে পারে।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২০১৩ সালে** পথশিশুদের জন্য মজার ইশকুল প্রতিষ্ঠা করেন আরিয়ান আরিফ, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হকের সঞ্চালিত পডকাস্টে অংশ নিয়েছেন।
- 📌 **জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’** ও **রুমির আত্মত্যাগ** আরিয়ান আরিফকে অনুপ্রাণিত করেছে দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
- 📌 **২০১৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর** প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করছিলেন, কিন্তু পরদিন তাদের আটক করা হয়। আরিয়ান আরিফ বলেছেন, ঘটনাটি সাজানো ছিল।
- 📌 **প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা** শিশুদের বিশ্বাস হারানোর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আরিয়ান আরিফ।
- 📌 **মজার ইশকুলের শুরুতে** কোনো অবকাঠামো না থাকায় শিশুদের খোলা আকাশের নিচে শিক্ষা দেওয়া হতো।
📰 বিস্তারিত
মজার ইশকুলের প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ান আরিফ প্রথম আলো ও প্রাইম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে বলেছেন, পথশিশুদের জীবনকে শিক্ষা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার মনে হতো, জীবনে এমন কিছু একটা করতে চাই, যা মানুষের জন্য কাজে আসবে। তবে ঠিক কী করব, সে বিষয়ে তখন স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছিল না। জাহানারা ইমামের ‘‘একাত্তরের দিনগুলি’’ পড়তে পড়তে রুমির আত্মত্যাগ আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। সেই জায়গা থেকেই শিশুদের জন্য কিছু করার চিন্তা আসে।’
আরিয়ান আরিফ আরও বলেছেন, ‘রুমির আত্মত্যাগ আমাকে দেশের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আমি যখন তাঁর জীবন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়েছি, তখন মনে হয়েছে, প্রত্যেকের সময়ের বাস্তবতা আলাদা। রুমি তাঁর সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছেন। আমি স্বাধীন দেশে জন্মেছি। তাই আমার দায়িত্বও আলাদা। দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো—এটাকে আমি আমার জায়গা থেকে দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা হিসেবে দেখি।’
মজার ইশকুলের শুরুতে কোনো অবকাঠামো না থাকায় শিশুদের খোলা আকাশের নিচে শিক্ষা দেওয়া হতো। আরিয়ান আরিফ বলেছেন, ‘শুরুর কয়েক দিন মজার ইশকুলের কোনো অবকাঠামো ছিল না; কিন্তু শিশুদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। খোলা আকাশের নিচে শিশুদের নিয়ে পড়াশোনা শেখানোর সেই দিনগুলো আমার কাছে এখনো খুব জীবন্ত।’
পথশিশুদের নিয়ে কাজ করার চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শিশুদের চ্যালেঞ্জ আর আমাদের চ্যালেঞ্জকে আমি আলাদা করে দেখি না। দিন শেষে আমরা অনেক সময় একই জায়গায় আটকে যাই। শিশুরা ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি পায়; কিন্তু সেগুলো পূরণ হয় না। এতে শিশুটি বিশ্বাস হারায়। ধীরে ধীরে তার আচরণেও এর প্রভাব পড়ে। আমরা প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়েও একই সমস্যার মুখোমুখি হই। আমাদের সমাজে অনেক সময় ছোট ছোট প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা হয় না। পাঁচ মিনিটের কথা বলে দুই ঘণ্টা পরে আসা—এমন ছোট ঘটনাও বিশ্বাসের সংকট তৈরি করে। আমার মনে হয়, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারা আমাদের বড় একটি সামাজিক সমস্যা।’
"আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার খাবার। এরপর পড়াশোনাকে আনন্দময় করে তোলা, যাতে শিশুরা চাপ অনুভব না করে। পাশাপাশি এমন প্রযুক্তিগত দক্ষতা শেখানো, যা দিয়ে তারা ভবিষ্যতে আয় করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিয়ান আরিফ (মজার ইশকুলের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০১৩ (প্রতিষ্ঠান শুরু), ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ (অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!