📌 ঝিকরগাছার বিধবা জোবাইদা নাহার সীমা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের উদ্যোক্তা ঋণ নিয়ে স্বামীর মৃত্যুর পর সংসার সামলেছেন। এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার ঋণে চাষাবাদ শুরু করে তিনি দুই লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ করেছেন এবং সচ্ছল জীবনে ফিরেছেন
ঝিকরগাছা উপজেলার কুলিয়া গ্রামের বিধবা জোবাইদা নাহার সীমা তিন বছর আগে স্বামী হারিয়ে অভাবের সংসারে পড়েন। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার উদ্যোক্তা ঋণ নিয়ে তিনি শুরু করেন চাষাবাদ। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে ঘুরে দাঁড়ান সীমা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বামীর মৃত্যুর পর দুই বিঘা জমি ও দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিধবা হন সীমা
- 📌 বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার উদ্যোক্তা ঋণ গ্রহণ
- 📌 ঋণের টাকায় রজনীগন্ধা ফুল, ধান ও পাট চাষ করে দুই লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ
- 📌 বিদেশি জাতের দুটি গরু ও ছয়টি ছাগল ক্রয় এবং সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা
- 📌 ঝিকরগাছা কৃষি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বিবেকানন্দ মণ্ডলের প্রশংসা
📰 বিস্তারিত
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা জোবাইদা নাহার সীমার জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম মাঠে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান। তখন তার গর্ভে ছিল সাড়ে তিন মাসের সন্তান এবং তিন ছোট ছেলে। স্বামীর মৃত্যুতে শোকের সঙ্গে যুক্ত হয় অভাবের সংসার। রাশেদুল রেখে যান দুই লাখ টাকার ঋণ। সীমার কাছে ছিল মাত্র দুই বিঘা চাষের জমি।
এই পরিস্থিতিতে সীমা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঝিকরগাছা শাখা থেকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার উদ্যোক্তা ঋণ গ্রহণ করেন। সেই টাকা দিয়ে তিনি শুরু করেন চাষাবাদ। তার পরিশ্রম ও নিষ্ঠা তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে দেয়নি। তিনি এ বছর রজনীগন্ধা ফুল, ধান ও পাট চাষ করেছেন। এছাড়া তিনি জারবেরা ফুলের একটি শেড তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছেন।
সীমা তার উদ্যোক্তা ঋণের টাকায় স্বামীর ঋণের দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। তিনি বিদেশি জাতের দুটি গরু ও বিভিন্ন প্রজাতির ছয়টি ছাগল কিনেছেন। তার বড় ছেলে রাইহানুল ইসলাম এবার দাখিল পরীক্ষা দিয়েছে। ছোট সন্তানরাও স্কুলে পড়ছে।
"এই টাকায় আমি স্বামীর অবর্তমানে চাষাবাদ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। সন্তানদের নিয়ে এখন ভালো আছি।" — জোবাইদা নাহার সীমা
ঝিকরগাছা কৃষি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বিবেকানন্দ মণ্ডল বলেন, "শুধু কৃষককে কৃষিঋণ নয়, কৃষি ব্যাংক উদ্যোক্তা তৈরিতেও কাজ করছে। মোছা. জোবাইদা নাহার সীমা একজন সফল উদ্যোক্তা কিষানি। তাঁকে দেড় লাখ টাকা উদ্যোক্তা ঋণ দেওয়া হয়। তাতে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এই শাখায় আরও শতাধিক মানুষকে উদ্যোক্তা ঋণ দিয়ে স্বাবলম্বী করা হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "সীমা সংগ্রামী, নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী। ফলে ঋণের অর্থ তিনি অযথা ব্যয় না করে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে সফল হয়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জোবাইদা নাহার সীমা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা, দুই লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!