📌 লালমনিরহাটের দুর্গম চরাঞ্চলে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মাধ্যমে ৩১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪২ হাজার শিক্ষার্থী পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। উপস্থিতি বেড়েছে ৯৫-৯৭ শতাংশে এবং পাঠদানে মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় নারীদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে
লালমনিরহাটের তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানে মনোযোগ বেড়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৩১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২২ হাজার ৮২৯ জন পাটগ্রাম উপজেলার এবং ১৯ হাজার ৮৫০ জন কালীগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থী প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লালমনিরহাটের ৩১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মাধ্যমে ৪২ হাজার শিক্ষার্থী পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে
- 📌 প্রতিদিন বনরুটি, ডিম, দুধ ও কলা সরবরাহের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে ৯৫-৯৭ শতাংশে
- 📌 চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পাঠদানে মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঝরে পড়ার হার কমেছে
- 📌 স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করছেন
- 📌 জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, আগে উপস্থিতির হার ছিল ৭০ শতাংশ, এখন তা বেড়েছে ৯০-৯৫ শতাংশে
📰 বিস্তারিত
লালমনিরহাট জেলার দুর্গম চরাঞ্চলে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবন পরিবর্তন হচ্ছে। গত ২৮ ডিসেম্বর পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলার ৩১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই প্রকল্প শুরু হয়। প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। পাটগ্রাম উপজেলায় ২২ হাজার ৮২৯ জন এবং কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৯ হাজার ৮৫০ জন শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় রয়েছে।
প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের বনরুটি, ডিম, দুধ ও কলা দেওয়া হয়। সপ্তাহে দুটি দিন বনরুটির সঙ্গে ২০০ মিলিলিটার প্যাকেটজাত দুধ এবং অন্যদিন কলা দেওয়া হয়। বাকি তিন দিন বনরুটির সঙ্গে সিদ্ধ ডিম সরবরাহ করা হয়। এই প্রকল্পের ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশে। শিক্ষকদের মতে, আগে দুপুরের পর অনেক শিক্ষার্থী ক্ষুধা ও দুর্বলতার কারণে পাঠদানে মনোযোগ হারিয়ে ফেলত। এখন পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় তারা দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে থাকতে পারছে।
ভোটমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান দুলু বলেন, ‘স্কুল ফিডিং চালুর পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। পুষ্টিকর খাবার পেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। বর্তমানে উপস্থিতির হার ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশ। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বসার জায়গা দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
মদনপুর বৈরাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেশনে হাসিন ও তাসলিমা ইয়াসমিন হুমায়রা জানান, ‘সকালে বাড়ি থেকে খেয়ে স্কুলে এসে বিকেল পর্যন্ত থাকা আমাদের জন্য কষ্টকর ছিল। ক্ষুধার কারণে ক্লাসে মনোযোগও থাকত না। এখন স্কুলেই পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় দীর্ঘ সময় ক্লাস করার শক্তি পাচ্ছে আমরা।’
অভিভাবক আজিজার রহমান ও মঞ্জুম আলী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। প্রতিদিন সন্তানদের টিফিনের জন্য খাবার বা টাকা দেওয়া সম্ভব হয় না। স্কুলে খাবার দেওয়ার পর শিশুরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। তাই এই কার্যক্রম চালু রাখা দরকার।’
এই প্রকল্পের আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থান। বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় নারীদের মাধ্যমে সিদ্ধ ডিম ও কলা সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় বেকার নারীরা মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করছেন। বাস্তবায়নকারী সংস্থা ইএসডিওর জেলা ম্যানেজার বাবুল আক্তার জামান বলেন, ‘স্বয়ংক্রিয় মেশিনে তৈরি বনরুটি এবং স্থানীয় নারীদের মাধ্যমে সিদ্ধ ডিম ও কলা সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের পাশে একজন করে নারীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।’
লালমনিরহাট জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, ‘আগে এসব বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। স্কুল ফিডিং চালুর পর তা বেড়ে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ হয়েছে। উপস্থিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও পাঠদানে মনোযোগও বেড়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে এ কার্যক্রম ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’
"আগে এসব বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। স্কুল ফিডিং চালুর পর তা বেড়ে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালমনিরহাট জেলা (পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসাদুজ্জামান দুলু (প্রধান শিক্ষক), আহসান হাবিব (জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা), বাবুল আক্তার জামান (জেলা ম্যানেজার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১০টি বিদ্যালয়, ৪২ হাজার শিক্ষার্থী, ২৮ ডিসেম্বর (প্রকল্প শুরু), ৯৫-৯৭ শতাংশ উপস্থিতি, ৪-৫ হাজার টাকা (মাসিক আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!