📌 বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে বাংলাদেশের ৮৪% কর্মক্ষম মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। স্নাতকদের ৬০% চাকরি না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক কাজে বাধ্য হন। ২০৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ‘বয়স্ক সমাজে’ পরিণত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতি দুর্বল বলে সতর্কতা জানানো হয়েছে
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও জনমিতিক চ্যালেঞ্জের সত্য প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন, যার সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ। বিশেষত স্নাতক বা উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশেরও বেশি চাকরি না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক কাজে বাধ্য হন। এসব কাজে তাদের আয় আনুষ্ঠানিক খাতের তুলনায় ৪৫ থেকে ৮৪ শতাংশ কম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের ৮৪% কর্মক্ষম মানুষ (৫ কোটি ৮০ লাখ) অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন
- 📌 স্নাতকদের ৬০% চাকরি না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক কাজে বাধ্য হন, আয় কমে ৪৫-৮৪%
- 📌 আনুষ্ঠানিক খাতে মাত্র ২.৭% কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গড় ৫.৪% এর অর্ধেক
- 📌 ২০৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ‘বয়স্ক সমাজে’ পরিণত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে ঝুঁকিতে
- 📌 মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩৫-৪০% কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিক, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা কম
📰 বিস্তারিত
বিশ্বব্যাংকের ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় দুর্বলতা রয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের আইনি সুরক্ষা নেই, মজুরি নির্ধারিত নয় এবং নিয়োগকর্তারা যেকোনো সময় তাদের কাজ থেকে বাদ দিতে পারেন। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের রিজিওনাল প্র্যাকটিস ডিরেক্টর জেম মেতে, এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিসকা লিজেলোটে ওনসর্গ এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল মার্টিন।
বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে, বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় কম। মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিক। এছাড়া বাংলাদেশের শ্রম-উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হারও পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত ২০৪৫ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, এরপর বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে। ২০৫১ সালের মধ্যে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত ১৪ শতাংশে পৌঁছাবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি এখনো দুর্বল। শহরে চিকিৎসক ও কর্মী সংখ্যার তুলনায় জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার চাহিদাও বাড়বে। তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশ ধনী হওয়ার আগেই বয়স্ক সমাজে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
"অর্থনীতিতে পর্যাপ্ত আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ছোট উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশের হাতে জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগানোর সময় সীমিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেম মেতে, ফ্রান্সিসকা লিজেলোটে ওনসর্গ, গেইল মার্টিন, মেহরিন আহমেদ মাহবুব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৪%, ৫ কোটি ৮০ লাখ, ৬০%, ৪৫-৮৪%, ২.৭%, ৩৫-৪০%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!