📌 দেশীয় গ্যাস উৎস থেকে নতুন কূপের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সর্বোচ্চ ৬৭.৫ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তিতাস-২৮ কূপের উদ্বোধন ও গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। গ্যাস সংকটের চাপ কমাতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের মধ্যে স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। নতুন কূপ খনন ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পাশাপাশি তিতাসের আরও তিনটি এবং বাখরাবাদের একটি কূপ থেকে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে পাঁচটি কূপ থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ৬৭.৫ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তিতাস-২৮ কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা
- 📌 তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা
- 📌 বাখরাবাদ-১১ কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা
- 📌 দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২৬৫-২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ হচ্ছে
- 📌 তিতাস-৩১ কূপের গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার, খনন কাজের ৮০% সম্পন্ন
📰 বিস্তারিত
দেশের মোট গ্যাস চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ঘাটতির কারণে শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কূপের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগকে জ্বালানি খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ প্রায় এক মাস আগে শেষ হয়েছে। এই কূপের গভীরতা প্রায় ১৩ হাজার ফুট। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম কূপটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই প্রসেস প্ল্যান্টের মাধ্যমে এই কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হবে। বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, উদ্বোধনের পর তিতাস-২৮ কূপ থেকে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে।
তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খননের প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ চলছে। তিতাস-২৮-এর কাজ শেষ হওয়ার পর তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপের কাজ এগিয়ে চলছে। তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং লগিংসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। কূপটি উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে। তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজও আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল শুরু হয়। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মিটার। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন সম্পন্ন হয়েছে। ভূতাত্ত্বিক কোনো জটিলতা না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তিতাস-৩১-এর খননকাজ শেষ হতে পারে। সফল হলে কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর কূপের খননকাজ তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ হওয়ার পর পরিকল্পিত। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মিটার। সফলভাবে খনন ও পরীক্ষা শেষ হলে বাখরাবাদ-১১ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
"তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ চলছে। তিতাস-২৮-এর কাজ শেষ হয়েছে। অন্য কূপগুলোর কাজও এগিয়ে চলছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অনিন্দ্য ইসলাম (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী), মো. আশরাফুল আলম (বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৭.৫ মিলিয়ন ঘনফুট (দৈনিক অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ), ১৩ হাজার ফুট (তিতাস-২৮ কূপের গভীরতা), ৫ হাজার ৬০০ মিটার (তিতাস-৩১ কূপের লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!