📌 পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঢাকার সবুজায়ন আলোচনা সভায় উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য, বৃক্ষ ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের মাধ্যমে পাহাড়ের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন
পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য, বৃক্ষ ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। তিনি বলেছেন, পাহাড়ের বিস্তীর্ণ জমি পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য, বৃক্ষ ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের মাধ্যমে পাহাড়ের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পার্বত্য চট্টগ্রামের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য (কাজুবাদাম, কফি, লটকন) ও প্রাণিসম্পদ (ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল) উৎপাদনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন
- 📌 পাহাড়ে উচ্চমূল্যের ফল ও কৃষিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন তিনি
- 📌 মন্ত্রী বলেন, মসলাজাতীয় পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানো ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সম্ভব
- 📌 ঢাকার সবুজায়ন প্রসঙ্গে ছাদবাগান ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে সুপরিকল্পিত উদ্যোগের আহ্বান জানান
- 📌 বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন সাচিং প্রু জেরী
📰 বিস্তারিত
আজ শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঢাকার সবুজায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাচিং প্রু জেরী উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের মাধ্যমে পাহাড়ের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে সাধারণত কলা, পেঁপে সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। এর পাশাপাশি কাজুবাদাম, কফি ও লটকন জাতীয় উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়া দরকার। এসব পণ্য দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে।’
মন্ত্রী বলেন, নরসিংদী থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লটকন উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। পাহাড়েও এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফল ও কৃষিপণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘পরিকল্পিতভাবে কাজ করা গেলে পাহাড়ের বিস্তীর্ণ জমিকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।’
পাহাড়ে প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে সাচিং প্রু জেরী বলেন, ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মতো উচ্চমূল্যের প্রাণিসম্পদ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মসলাজাতীয় পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘কোন ধরনের বৃক্ষ, কৃষিপণ্য ও প্রাণিসম্পদ সবচেয়ে কার্যকর ও লাভজনক হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।’ তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার সবুজায়ন প্রসঙ্গে ছাদবাগান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নগরের সবুজায়নের মতো বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
সাচিং প্রু জেরী বলেন, ‘শিশু গাছ বা নিম্নমানের গাছ বড় হওয়ার পর মূলত জ্বালানি কাঠ কিংবা সীমিত পরিসরে কমমূল্যের আসবাব তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ভালো ও মূল্যবান প্রজাতির গাছ লাগানো হলে সেগুলোর অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি থাকে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি উন্নত ও মূল্যবান প্রজাতি নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা শেকড়ের ট্রাস্টি হাজী মোতালেব মাশরাকির সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন গ্রীনওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুইয়াঁ ও কৃষিবিদ ড. মেহেদি মাসুদ।
"পাহাড়ে এমন ধরনের বৃক্ষ ও কৃষিপণ্য নির্বাচন করতে হবে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং পাহাড়ের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (জাতীয় প্রেসক্লাব), পার্বত্য চট্টগ্রাম, নরসিংদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাচিং প্রু জেরী (পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য (কাজুবাদাম, কফি, লটকন), ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, মসলাজাতীয় পণ্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!