📌 সরকার নতুন নির্দেশিকা জারি করে টিসিবি কার্ডের সুবিধা প্রাপকদের তালিকা সংশোধন করেছে। হতদরিদ্র, ভূমিহীন শ্রমিক ও অসচ্ছল পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতি পরিবারে সর্বোচ্চ দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি ও পাঁচ কেজি চাল বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ৭৫ লাখ কার্ডধারী রয়েছে, কিন্তু অনিয়মের কারণে ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুবিধা প্রাপকদের তালিকা সরকার নতুনভাবে সংশোধন করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা–২০২৬’ জারি করে। এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কারা টিসিবির কার্ড পাবেন এবং কীভাবে কার্ড বিতরণ ও পণ্য বিতরণের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সুবিধা প্রাপকদের তালিকা সংশোধিত**: হতদরিদ্র পরিবার, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা-শ্রমিক, কারখানার শ্রমিক, উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তি, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত ও অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। শিশু বা প্রতিবন্ধী থাকলে তাদের পরিবারও সুবিধা পাবে।
- 📌 **এক পরিবারে একাধিক সদস্য সুবিধা পাবেন না**: একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি একসাথে উপকারভোগী হতে পারবেন না।
- 📌 **কার্ড পাওয়ার শর্ত**: জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী/স্ত্রীর পরিচয়পত্র এবং সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন।
- 📌 **সুবিধা প্রাপকদের পণ্য তালিকা**: প্রতি পরিবারে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি চিনি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে ৫ কেজি চাল বিতরণ করা হবে।
- 📌 **৭৫ লাখ কার্ডধারী বর্তমানে রয়েছে, ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল**: অনিয়মের কারণে বাতিল করা ৫৯ লাখ কার্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের দেওয়া হবে।
- 📌 **২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিতরণের পরিকল্পনা**: ২ লাখ টন ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল ও ১ লাখ ১০ হাজার টন চিনি বিক্রি করার লক্ষ্য।
- 📌 **সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্বচ্ছতা**: ডিলারদের দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং পণ্য বিক্রির তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টিসিবির কার্ডধারী সুবিধা প্রাপকদের মধ্যে হতদরিদ্র পরিবার, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা-শ্রমিক, কারখানার শ্রমিক, উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তি, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত ও অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া যেসব পরিবারে শিশু বা প্রতিবন্ধী রয়েছে, তাদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে একই পরিবারের একাধিক সদস্য একসাথে উপকারভোগী হতে পারবেন না।
কার্ড পাওয়ার জন্য উপকারভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নিজের নামে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। বর্তমানে ৭৫ লাখ কার্ডধারী রয়েছে, কিন্তু অনিয়মের কারণে ইতিমধ্যে ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কার্ড দেওয়া হবে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্বাচিত উপকারভোগীকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। প্রতি পরিবারের তথ্য টিসিবির সেবা অ্যাপের মাধ্যমে তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হবে। সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আলাদা তদারক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং জেলা সংসদ সদস্য উপদেষ্টা থাকবেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবি ২ লাখ টন ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল ও ১ লাখ ১০ হাজার টন চিনি বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং চিনি প্রতি কেজি ৭০ টাকা মূল্যে বিক্রি করা হবে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার চাইলে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষেরও পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
টিসিবির উপপরিচালক শাহাদত হোসেন বলেছেন, নতুন নির্দেশিকায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাত্রা আরও শক্তিশালী হবে। ডিলারদের দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং পণ্য বিক্রির তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গুদাম থেকে পণ্য নেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকার পরিদর্শন করবে।
"সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাত্রা আরও শক্তিশালী হবে নতুন নির্দেশিকায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সমগ্র বাংলাদেশ (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, টিসিবির উপপরিচালক শাহাদত হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ লাখ কার্ডধারী, ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল, ২ লাখ টন ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার টন চিনি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!