📌 সিরাজগঞ্জে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের তৎপরতায় ৮ মাসে ১৭টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। তবে পরিবারের চাপ ও সামাজিক অসচেতনতার কারণে এখনও বাল্যবিয়ের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে
সিরাজগঞ্জ জেলায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের তৎপরতায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১৭টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। তবে পরিবারের চাপ, সামাজিক অসচেতনতা ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্কের কারণে এখনও বাল্যবিয়ের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জে ৮ মাসে ১৭টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের উদ্যোগে বন্ধ করা হয়েছে
- 📌 বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ অনুযায়ী, ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পুরুষ ও ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া নারীকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়
- 📌 বাল্যবিয়ের পরিণতি হিসেবে অনেক কিশোরীকে পড়াশোনা বন্ধ করে দায়িত্ব নিতে হয় এবং দাম্পত্য জীবনে জটিলতা দেখা দেয়
- 📌 সচেতনতা বাড়াতে জেলায় ১৩৬টি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে
- 📌 বাল্যবিয়ের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করা কঠিন, কারণ অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিরোধ করা বিয়ের তথ্য সরকারি কার্যক্রমের সূচক হিসেবে কাজ করে
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জ জেলার গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিয়ের প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। পরিবারের চাপ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্কের কারণে অনেক কিশোর-কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের তৎপরতায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে জেলায় ১৭টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের কাছে ১৭টি বাল্যবিয়ে আয়োজনের খবর আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, বয়স যাচাই ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে সবগুলো বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।
বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৩৬টি উঠান বৈঠক করা হয়েছে। বাংলাদেশের ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭’ অনুযায়ী, ২১ বছর পূর্ণ হয়নি এমন পুরুষ এবং ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি এমন নারীকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোনো এক পক্ষ বা উভয়পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে সেটি বাল্যবিয়ে হিসেবে গণ্য হয়। তবে বাল্যবিয়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করা কঠিন। জেলা পরিসংখ্যান অফিস বা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিরোধ করা বিয়ের তথ্যই সরকারি কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে সামনে আসছে।
অনেক ক্ষেত্রে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আবার কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পরও অনেক পরিবার দ্রুত বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কও এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রাখছে। বাল্যবিয়ের পরিণতি যে সবসময় সুখকর হয় না, তার উদাহরণও রয়েছে। অল্প বয়সে সংসারে প্রবেশের কারণে অনেক কিশোরীকে পড়াশোনা বন্ধ করে পারিবারিক দায়িত্ব নিতে হয়। বয়স ও মানসিক পরিপক্কতার অভাবে দাম্পত্য জীবনে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটে।
"আমরা বিয়ে করাতে চাইনি। দু’জন সম্পর্ক করে বিয়ে করেছে। এখন তাদের বনিবনা হচ্ছে না। তাই কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিতে হচ্ছে।"
— শফিকুল ইসলাম, নিজের ছেলেকে বাল্যবিয়ে দেওয়া এক বাবা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জ জেলা, গ্রামাঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শফিকুল ইসলাম, শাকিল মোহাম্মাদ শরিফুর হায়দার (রফিকুল সরকার), কানিজ ফাতেমা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, ১৩৬টি উঠান বৈঠক, ২১ বছর (পুরুষের বয়স), ১৮ বছর (নারীর বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!