📌 জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৪৭% বেশি। তবে করদাতার সংখ্যা ও রিটার্ন দাখিলের হার নিম্নে থাকায় লক্ষ্য পূরণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কর বিশেষজ্ঞরা কর ফাঁকি ও নিষ্ক্রিয় টিআইএন বাদ দিয়ে সক্রিয় করদাতাদের শনাক্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দাবি করছেন
২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের প্রকৃত আদায়ের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। তবে করদাতার সংখ্যা ও রিটার্ন দাখিলের হারের অবনতি করজালের কার্যকরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ, কিন্তু রিটার্ন দিয়েছেন মাত্র ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার জন — যা নিবন্ধিত করদাতার প্রায় ৬২ শতাংশ। রিটার্ন দাখিলের হার নেমে এসেছে প্রায় ৩৮ শতাংশে, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআর কর আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের প্রকৃত আদায়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি।
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, যেখানে সংশোধিত লক্ষ্য ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা — ঘাটতি হয়েছিল ৯২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা।
- 📌 জুন ২০২৬ পর্যন্ত টিআইএনধারীর সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ, কিন্তু রিটার্ন দিয়েছেন মাত্র ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার — যা ৬২ শতাংশেরও কম।
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর আদায় বেড়েছে ১৩.২ শতাংশ (১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা), কিন্তু কর ফাঁকির কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা।
- 📌 কর বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, নিষ্ক্রিয় টিআইএন বাদ দিয়ে সক্রিয় করদাতাদের শনাক্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এনবিআর ইতোমধ্যে ই-রিটার্ন ও অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করেছে।
- 📌 বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) এ বর্তমানে ১ হাজার ১৫৯ করদাতা রয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংক, বীমা ও মোবাইল কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত।
📰 বিস্তারিত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য করজালের কার্যকরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ, কিন্তু রিটার্ন দিয়েছেন মাত্র ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার জন — যা নিবন্ধিত করদাতার প্রায় ৬২ শতাংশ। রিটার্ন দাখিলের হার নেমে এসেছে প্রায় ৩৮ শতাংশে, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এনবিআরের ডাটাবেজে বিপুলসংখ্যক নিষ্ক্রিয় টিআইএন রয়েছে — কারও ব্যবসা বন্ধ, কারও আয় করযোগ্য সীমার নিচে, আবার অনেকে বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য টিআইএন নিয়েছেন। ফলে এক কোটি ৩০ লাখ টিআইএনকে সক্রিয় করদাতার সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করলে করজালের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের প্রকৃত আদায়ের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, যেখানে সংশোধিত লক্ষ্য ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা — ফলে ঘাটতি হয়েছিল ৯২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। করপোরেট খাতেও একই প্রবণতা দেখা যায় — প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার করপোরেট টিআইএনের বিপরীতে রিটার্ন দিয়েছে মাত্র ৪২ হাজার প্রতিষ্ঠান। তবে রিটার্ন কমলেও আয়কর আদায় বেড়েছে ১৩.২ শতাংশ (১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা)।
কর ফাঁকির চিত্রও উদ্বেগজনক। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায় ২০২৩ সালে কর ফাঁকি ও কর পরিহারের কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি অনুমান করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। কর বিশেষজ্ঞ তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, “বিদ্যমান কর ব্যবস্থার পদক্ষেপ দিয়ে বড় লক্ষ্য অর্জন কঠিন; কর ফাঁকি কমানোই কার্যকর পথ।” তিনি আরও বলেন, বড় করদাতারা রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে আছেন, কিন্তু প্রকৃত করদাতা শনাক্ত করা প্রয়োজন। এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) এ বর্তমানে ১ হাজার ১৫৯ করদাতা রয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংক, বীমা, মোবাইল ফোন কোম্পানি এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত।
"কাগজে এক কোটি ৩০ লাখ টিআইএন থাকলেই করজাল বড় হয় না; নিয়মিত রিটার্ন, প্রকৃত আয় প্রকাশ এবং ন্যায্য কর পরিশোধের সংস্কৃতি তৈরি হলেই তার প্রতিফলন রাজস্বে দেখা যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (এনবিআর সদর দপ্তর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহ আলম নূর (এনবিআর), অর্থমন্ত্রী, তৌফিকুল ইসলাম খান (সিপিডি), সেলিম রায়হান (অর্থনীতিবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা:
- ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা (২০২৬-২৭ অর্থবছরের লক্ষ্য)
- ৪৭ শতাংশ (লক্ষ্যমাত্রার বৃদ্ধি)
- ১ কোটি ৩০ লাখ (টিআইএনধারীর সংখ্যা)
- ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার (রিটার্ন দিয়েছেন)
- ৬২ শতাংশ (রিটার্ন দাখিলের হার)
- ৩৮ শতাংশ (রিটার্ন দাখিলের সর্বনিম্ন হার)
- ৯২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা (২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঘাটতি)
- ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা (কর ফাঁকির সম্ভাব্য ক্ষতি)
- ১ হাজার ১৫৯ (বৃহৎ করদাতা ইউনিটে করদাতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!