📌 নতুন সরকার গঠনের পর পুঁজিবাজারে প্রত্যাশা তৈরি হলেও ছয় মাসেও সেই পুরোনো দশাই রয়ে গেছে। ডিএসই সূচকের সামান্য উত্থান সত্ত্বেও বাজার মূলধন, লেনদেন ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমেছে। বিশ্লেষকরা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার দুর্বলতা ও কারসাজির কারণে আস্থার সংকটকে দায়ী করেছেন।
পুঁজিবাজারে নতুন সরকার গঠনের পর প্রত্যাশা তৈরি হলেও ছয় মাসেও সেই পুরোনো দশাই রয়ে গেছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর আস্থা ফেরাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাজারের মূল সূচকগুলো সেই প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৪২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ছয় মাস পর ১৭ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫ হাজার ১৮৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকায়। এ সময়ে বাজার থেকে কমেছে ১১ হাজার ৬৫৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ৫ হাজার ৫৭০ পয়েন্ট থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮১৪ পয়েন্টে
- 📌 ছয় মাসে ডিএসইতে দৈনিক লেনদেন কমেছে ২২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা
- 📌 বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছয় মাসে কমেছে ১ হাজার ১০৩টি
- 📌 আগের ১২ মাসে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ প্রবাহ ছিল প্রায় ঋণাত্মক ৪৩০ কোটি টাকা
- 📌 ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ৫০০ কোম্পানির মধ্যে ২০০টিরও বেশি কোম্পানির মৌলভিত্তি দুর্বল
📰 বিস্তারিত
পুঁজিবাজারে নতুন সরকার গঠনের পর প্রত্যাশা তৈরি হলেও ছয় মাসেও সেই পুরোনো দশাই রয়ে গেছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর আস্থা ফেরাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাজারের মূল সূচকগুলো সেই প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৪২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ছয় মাস পর ১৭ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫ হাজার ১৮৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকায়। এ সময়ে বাজার থেকে কমেছে ১১ হাজার ৬৫৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ৫ হাজার ৫৭০ পয়েন্ট থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮১৪ পয়েন্টে। তবে সূচকের এই উত্থান পুরো বাজারের চিত্র তুলে ধরতে পারেনি। সূচক বাড়লেও বাজারের মোট মূল্য কমেছে। দৈনিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ১৭ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ৯৯৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকায়। ছয় মাসে লেনদেন কমেছে ২২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ছয় মাসে তাদের বিও হিসাব কমেছে ১ হাজার ১০৩টি। মে পর্যন্ত আগের ১২ মাসে বিদেশিরা যত অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, তার চেয়ে বেশি তুলে নিয়েছেন। ফলে ওই সময়ে নিট বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ ঋণাত্মক ছিল প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই অবস্থার পেছনে আস্থার সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের অভাব রয়েছে। এতে আস্থা কমছে। কারসাজি ও দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে আস্থার সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
"পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের অভাব রয়েছে। এতে আস্থা কমছে। কারসাজি ও দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে আস্থার সংকট গভীর হচ্ছে।"
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, বাজারে এখনো সংস্কার হয়নি, কারসাজি চলছে এবং ভালো শেয়ার আসছে না। এসব কারণে বাজার ভালো হচ্ছে না। নতুন কমিশন সুশাসন, নজরদারি ও আস্থা ফেরাতে উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্তে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারির কথা বলা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, অধ্যাপক আল-আমিন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ মাস, ৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৪২ কোটি ৪২ লাখ টাকা, ৭ লাখ ৫ হাজার ১৮৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ৫ হাজার ৮১৪ পয়েন্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!