📌 ঝিনাইদহের মিশন আচার্যের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র আটকে ছিল স্থায়ী বসতভিটা না থাকার কারণে। শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলনের হস্তক্ষেপে এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের মধ্যস্থতায় সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৮২ জনের মধ্যে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও মিশনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মিশন আচার্যের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র আটকে ছিল স্থায়ী বসতভিটা না থাকার কারণে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের হস্তক্ষেপ এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনের মধ্যস্থতায় এই জট খুলে ফেলা হয়েছে। আজ রোববার মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাশেদ খাঁন। সাক্ষাতের পর তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করে লিখেন, ‘মিশন আচার্য নিয়োগপত্র হাতে পেতে যাচ্ছে...মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিশন আচার্য ১৮২ জনের মধ্যে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় ১৮০ জনের সাথে নিয়োগপত্র পাননি।
- 📌 শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন প্রশ্ন তুলেন: ‘আবাসন না থাকলে কাউকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না—এমন কোনো বিধান আছে কি?’
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মিশনের নিয়োগপত্র আটকে থাকার বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
- 📌 মিশন আচার্যের বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মা একাকী দুই ছেলেকে বড় করেন।
- 📌 মিফতাহুল জান্নাত সায়মা (চট্টগ্রামের মেয়ে) এবং মিশন আচার্য উভয়েই শিক্ষা পথে অগ্রসর হলেও তাদের নিজস্ব বাড়ি নেই।
📰 বিস্তারিত
মিশন আচার্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বেড়ে ওঠেন। চাকরির আবেদনে তিনি ওই ঠিকানা ব্যবহার করেন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁর নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। তবে পুলিশি যাচাইয়ে কলাবাগানের ওই ঠিকানায় তাঁর বসবাসের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।
শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন মিশনের নিয়োগ আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনে জানতে চান, ‘আবাসন না থাকলে কাউকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না—এমন কোনো বিধান বা সার্কুলার আছে কি না?’ মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আবাসন না থাকলে আপনারা বানিয়ে দেবেন। কোন কনস্টিটিউশনে লেখা আছে, আবাসন না থাকলে চাকরি দেওয়া যাবে না?’
মিশনকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিদপ্তর কোন নিয়ম অনুসরণ করেছে, সেটিও জানতে চান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যার জায়গা-জমি নেই, সে শিক্ষক হতে পারবে না—এটা কি কোথাও লেখা আছে?’ এ বিষয়ে অধিদপ্তরের মতামতের কাগজ দেখতে চান তিনি।
মিশনের জন্মের আগেই তাঁর বাবা নন্দ আচার্য পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেন। আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে মিশন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। মিশনের নানা বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে। সেখানে তাঁদের নিজস্ব বাড়ি নেই। ২০২২ সালে তাঁর এক মামা তাঁকে দুই শতক জমি লিখে দেন। চাকরি পাওয়ার পর ওই জমিতে ঘর তুলে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা ছিল মিশনের।
অপরদিকে, চট্টগ্রামের নন্দনকানন এলাকার মিফতাহুল জান্নাত সায়মা চট্টগ্রামের মেয়ে। তিনি দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। বোন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এবং ভাই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছেন। বাবা ব্যবসায়ী এবং মা গৃহিণী। তাঁর মা-বাবার নিজেদের পড়াশোনার সুযোগ ছিল সীমিত। কিন্তু সন্তানদের শিক্ষার প্রশ্নে মা-বাবা ছিলেন সব সময় দৃঢ়।
"মিশন আচার্য নিয়োগপত্র হাতে পেতে যাচ্ছে...মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহ সদর উপজেলা (কলাবাগান, পণ্ডিতপুর গ্রাম), চট্টগ্রাম (নন্দনকানন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিশন আচার্য, শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন, রাশেদ খাঁন, মিফতাহুল জান্নাত সায়মা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮২ জন (চূড়ান্ত উত্তীর্ণ), ১৮০ জন (নিয়োগপ্রাপ্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!