📌 রাজশাহী বিভাগে ১০২টি পলিনেট হাউস নির্মাণে ২৫ কোটি টাকা খরচ হলেও বেশিরভাগে ফসল উৎপাদন হচ্ছে না। নির্মাণের মান, প্রশিক্ষণের অভাব ও প্রকল্পের নকশার দুর্বলতার কারণে কৃষকদের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন
রাজশাহী বিভাগে সরকারি প্রকল্পের ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে ১০২টি পলিনেট হাউস। ২৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পে নির্মিত হাউসের বেশিরভাগে ফসল উৎপাদন হচ্ছে না। নির্মাণের মান, প্রকল্পের নকশা ও প্রশিক্ষণের অভাবের কারণে কৃষকদের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহী বিভাগে ১০২টি পলিনেট হাউস নির্মাণে ২৫ কোটি টাকা খরচ হলেও ৭টি হাউসের মধ্যে ৪টিতে পলিথিন ছিঁড়ে গেছে এবং একটির পলিথিন পুরোপুরি খুলে ফেলা হয়েছে
- 📌 প্রতিটি পলিনেট হাউসের গড় খরচ ২৪ লাখ টাকা, কিন্তু প্রকল্পের নকশা ও নির্মাণের মান নিয়ে কৃষকদের তীব্র অভিযোগ
- 📌 ১৬ জন কৃষকের মধ্যে ১০ জন বড় ধরনের লোকসানের কথা বলেছেন, একজন কৃষক তিন বছরে ২৮ ধরনের ফসল চাষের চেষ্টা করলেও একটিতেই সফল হননি
- 📌 বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রকল্পের সাফল্যের জন্য ফসলভেদে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে
- 📌 প্রকল্প পরিচালক অভিযোগ করেছেন, কৃষকরা পরামর্শ মানেন না ও পরিশ্রম করতে চান না, কিন্তু প্রকল্পের ব্যর্থতা আড়াল করে সাফল্যের গল্প বলানো হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০২টি পলিনেট হাউস নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ হাউসে ফসল উৎপাদন হচ্ছে না। প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলা ১৬ জন কৃষকের মধ্যে ১০ জন বড় ধরনের লোকসানের কথা বলেছেন।
প্রকল্পের ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে নির্মাণের মান ও প্রকল্পের নকশার দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মপ্রধান বাংলাদেশের আবহাওয়ায় পলিনেট হাউস কার্যকর করার জন্য ফসলভেদে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু প্রকল্পে একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও, নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
কৃষকদের প্রশিক্ষণের অভাবও প্রকল্পের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। কৃষকরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না পাওয়ার কথা বলেছেন। প্রকল্প পরিচালক আবার অভিযোগ করেছেন, কৃষকরা পরামর্শ মানেন না ও পরিশ্রম করতে চান না। তবে প্রকল্পের ব্যর্থতা আড়াল করে কৃষকদের দিয়ে সাফল্যের গল্প বলানো হচ্ছে। একজন কৃষক তিন বছরে ২৮ ধরনের ফসল চাষের চেষ্টা করলেও একটিতেই সফল হননি।
"প্রকল্পের নকশাতেই দুর্বলতা ছিল। নির্মাণের মান নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ না দেওয়া এবং প্রকল্প পরিচালকদের দায়িত্বশীলতার অভাব প্রকল্পের ব্যর্থতার মূল কারণ"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিভাগ, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কৃষক, বিশেষজ্ঞ, প্রকল্প পরিচালক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০২টি পলিনেট হাউস, ২৫ কোটি টাকা, ২৪ লাখ টাকা (প্রতি হাউস), ১৬ জন কৃষক, ১০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, ২৮ ধরনের ফসল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!