📌 বিএনপি সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ছাদভিত্তিক প্রকল্পের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নবায়নযোগ্য শক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগের খরচ, জায়গার অসুবিধা ও বিক্রয় ব্যবস্থার অজ্ঞাততা প্রকল্পের বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় বিএনপি সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছাদে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার ঘোষণা দিলেও প্রকল্পের বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে দেখা যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকার ঘোষণা করেছে: ছাদে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনা হবে, যা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে
- 📌 নবায়নযোগ্য শক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা আল মাহমুদ বলেছেন: "১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। কেননা একজন গ্রাহকের বাসায় যদি দুই কিলোওয়াট লোড থাকে, তাহলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কোথায় বিক্রি করবেন?"
- 📌 প্রতি কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৭০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বসাতে ৭০০ বর্গফুট জায়গা দরকার
- 📌 ঢাকার মতো মাল্টিস্টোরেড ভবনে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের সফলতা সন্দেহজনক, কারণ একই ছাদে বহু পরিবার থাকায় প্রফিট অর্জন সম্ভব নয়
- 📌 তিন কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপনে খরচ হয় ১ লাখ ৬৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ব্যাটারি স্টোরেজ যোগ করলে খরচ আরো বেড়ে যায়
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের অংশ হিসেবে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে, যেসব গ্রাহক ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দিতে পারবে, তাদের প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনা হবে। এই প্রণোদনা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং তিন বছর এই বিদ্যুৎ কেনা হবে।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "এখনো অনেক কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। কেননা একজন গ্রাহকের বাসায় যদি দুই কিলোওয়াট লোড থাকে, তাহলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কোথায় বিক্রি করবেন? এখানে ক্লারিফিকেশন দরকার ছিল।" তিনি আরও বলেছেন, "একই বাড়িতে অনেকগুলো পরিবার থাকেন। বিভিন্ন ফ্ল্যাট মালিক আলাদা। এই রুফটপ ব্যবহার করে কেউ প্রফিট করবে এটা সম্ভব নয়। ব্যবহারের জায়গাটা অনেক বেশি। ঢাকা শহর বা মাল্টিস্টোরেড ভবনে সেটা অনগ্রসর হবে।"
সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতি কিলোওয়াট ক্ষমতার জন্য ৭০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বসাতে ৭০০ বর্গফুট জায়গা দরকার। বর্তমান বাজারে তিন কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপনে খরচ হয় ১ লাখ ৬৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ব্যাটারি স্টোরেজ যোগ করলে খরচ আরো বেড়ে যায়। কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভাইরনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেছেন, "সরকার চাচ্ছে একই সঙ্গে ব্যাটারি স্টোরেজ থাকতে হবে এবং রুফটপ সোলার থাকতে হবে। সেখান থেকে যে বিদ্যুৎটা যাবে গ্রিডে সেটা স্টেবল বিদ্যুৎ হবে।"
"১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার যে বিষয়টা আছে আসলে বিক্রিটা কে করবে? ক্লিয়ার পিকচারটা কিন্তু নেই। কেন নেই, যে আপনার বাসায় যদি দুই কিলোওয়াট লোড থাকে, অর্থাৎ আপনার স্যাঙ্কশন লোড আপনি দুই কিলোওয়াটই করতে পারবেন। তা হলে আপনি বেশি পেলেন কোথায় আর বেচবেন কোথায়? এখানে ক্লারিফিকেশন দরকার ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তফা আল মাহমুদ (বিএসআরইএ সভাপতি), হাসান মেহেদী (ক্লিন প্রধান নির্বাহী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ টাকা ৫০ পয়সা (প্রতি ইউনিট), ৭০ বর্গফুট (প্রতি কিলোওয়াট জায়গা), ৭০০ বর্গফুট (১০ কিলোওয়াট প্যানেল), ১ লাখ ৬৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা (৩ কিলোওয়াট প্যানেলের খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!