📌 গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও দেশে বিদ্যুৎ সংকট থেকে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু হলেও তিনটি কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদনেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে। গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদী সংকটে শিল্প ও পরিবহনে বেড়েছে চাপ
দেশে গ্যাস সরবরাহের কিছুটা উন্নতি হলেও বিদ্যুৎ সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার পথে বাধা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও লোডশেডিং অব্যাহত থাকবে। কারণ, দেশের তিনটি প্রধান কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র অর্ধেকে নিমিত বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে। গত ১৫ আগস্ট থেকে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকা আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট গতকাল চালু হলেও, গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদী সংকটে শিল্পকারখানাগুলো পুরো সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। রান্না ও পরিবহনে গ্যাসের ঘাটতি বাড়িয়ে দিচ্ছে জনগণের ভোগান্তি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও লোডশেডিং অব্যাহত**: দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও, সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে। গতকাল সরবরাহ করা হয়েছিল মাত্র ২৩৭ কোটি ঘনফুট, যার মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে ৭৫ কোটি ঘনফুট।
- 📌 **আদানির ইউনিট চালু হলেও বিদ্যুৎ সংকট**: আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু হলেও, তিনটি কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে।
- 📌 **এলএনজি সরবরাহ বাড়লেও দামের চাপ**: সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা থাকলেও, বাজারে দামের বেড়ে যাওয়ায় মাত্র ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে।
- 📌 **৯ বছরের গ্যাস উৎপাদনের হ্রাস**: দেশে ২০১৭ সাল থেকে গ্যাস উৎপাদন কমতে শুরু করেছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হলেও, বর্তমানে সরবরাহের অপারগতা দেখা দিচ্ছে।
- 📌 **গ্যাসের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ**: আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম ছয় মাসে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের চাহিদা বাড়িয়ে দিচ্ছে দামের চাপ।
📰 বিস্তারিত
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রথম আলোকে বলেছেন, পরিকল্পনা অনুসারে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। তবে কারিগরি ত্রুটি না হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতো। তিনি জানান, শিল্পসহ সব খাতের গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। তবে যত দিন যাবে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি তত উন্নতি হতে থাকবে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও, সর্বোচ্চ ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। গতকাল সরবরাহ করা হয়েছিল ২৩৭ কোটি ঘনফুট, যার মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে ৭৫ কোটি ঘনফুট। আজ থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে ৯৩ কোটি ঘনফুট করা হতে পারে। এটি হলে দিনের মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়াবে ২৫৫ কোটি ঘনফুটে। ফলে শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকট কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, বিশ্ববাজারে এলএনজি কার্গোর সরবরাহ কম। এর মধ্যে চাহিদামতো এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। তিনি জানান, সোমবার থেকেই সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। দ্রুতই গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি উন্নত হবে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস সংকটের পর ১৫ আগস্ট টার্মিনাল পুরোদমে সরবরাহের জন্য তৈরি হয়। তবে এলএনজির নতুন কার্গো কম আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছিল না। সাধারণত প্রতি মাসে গড়ে ১০টি এলএনজি কার্গো আনা হয়, কিন্তু এবার মাত্র ১৫টি কার্গো আসার কথা ছিল। এর মধ্যে চারটি কার্গো সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনা হয়েছিল, কিন্তু একটিও আসেনি।
"বিশ্ববাজারে এলএনজি কার্গোর সরবরাহ কম। এর মধ্যে চাহিদামতো এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। সোমবার থেকেই সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। দ্রুতই গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি উন্নত হবে।"
আরপিজিসিএল সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা থাকলেও, দামের বেড়ে যাওয়ায় মাত্র ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার থেকে কেনা হয়েছে পাঁচটি। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত, কাতারের সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং ইউরোপের বাড়তি চাহিদা এলএনজির দাম বাড়িয়েছে। ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার (মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল), দেশব্যাপী (গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আবদুল মান্নান (পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী), কর্মকর্তা (পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮০ কোটি ঘনফুট (গ্যাস চাহিদা), ২৩৭ কোটি ঘনফুট (গতকাল সরবরাহ), ৭৫ কোটি ঘনফুট (এলএনজি সরবরাহ), ৯৩ কোটি ঘনফুট (আজ থেকে এলএনজি সরবরাহ), ২৫৫ কোটি ঘনফুট (মোট গ্যাস সরবরাহ), ৯ বছর (গ্যাস উৎপাদনের হ্রাস), ২১ জুলাই (অগ্নিদুর্ঘটনা), ২৫ দিন (গ্যাস সংকট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!