📌 বাংলাদেশের পোল্ট্রি খামারের ২ কোটি ৫০ লাখ বর্গমিটার ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপন করে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটপিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এতে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা, খামারিদের ব্যয় কমা এবং পরিবেশ বাঁচানো সম্ভব।
বাংলাদেশের পোল্ট্রি খামারের বিশাল ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগিয়ে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটপিক (MWp) বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে। এ উদ্যোগ দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং পোল্ট্রি খামারিদের বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের ২ কোটি ৫০ লাখ বর্গমিটার পোল্ট্রি শেডের ছাদের ৭০ শতাংশে সৌরপ্যানেল স্থাপন করলে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ MWp সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব
- 📌 এতে জাতীয় গ্রিডে ৭৩ থেকে ৮২ শতাংশের সমান বিদ্যুৎ যোগান দিতে পারে, যা সরকারের ২০৩০ সালের ৫ হাজার ৫০০ MWp লক্ষ্যমাত্রার ৭৩-৮২ শতাংশ পূরণ করবে
- 📌 খামারে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে ফ্যান, লাইট ও যন্ত্রপাতি চালানোর ব্যয় কমবে এবং জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি হ্রাস পাবে
- 📌 পোল্ট্রি বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও জৈবসার উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হবে
- 📌 ছোট, মাঝারি ও বড় খামারের জন্য আলাদা প্রযুক্তিনির্ভর মডেল প্রস্তাবিত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গত ৩ অক্টোবর ঢাকার র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ ব্রাঞ্চের (WPSA-BB) আন্তর্জাতিক কারিগরি সেমিনার-২০২৬-এ বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (BPICC) সভাপতি মসিউর রহমান ‘ক্লাইমেট-স্মার্ট পোল্ট্রি ফার্মিং’ বিষয়ে উপস্থাপনা দেন। তিনি বলেন, পোল্ট্রি শিল্পকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব।
মসিউর রহমানের উপস্থাপনায় বলা হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ বর্গমিটার পোল্ট্রি শেডের ছাদ রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপন করলে উচ্চদক্ষতার সৌরপ্যানেলের মাধ্যমে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ MWp সক্ষমতা স্থাপন সম্ভব। এতে নতুন জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৩২ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট। গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ সংকটের কারণে লোডশেডিংয়ের চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় পোল্ট্রি খামারের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এবং জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উৎপাদনের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে পোল্ট্রি খামারিরাও সরাসরি লাভবান হতে পারেন। খামারে ভেন্টিলেশন, কুলিং, আলো ও পানি সরবরাহের যন্ত্রপাতি চালাতে প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপন করে নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা গেলে বিদ্যুৎ বিল কমবে এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকিও হ্রাস পাবে। পাশাপাশি সৌরপ্যানেলের ছায়া শেডের ওপর সরাসরি সূর্যের তাপ পড়া কমিয়ে ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
"ক্লাইমেট-স্মার্ট পোল্ট্রি ফার্মিং' বিষয়ক উপস্থাপনায় পোল্ট্রি শিল্পকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। এতে খামারিদের ব্যয় কমবে এবং পরিবেশ রক্ষায় অবদান পড়বে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মসিউর রহমান (BPICC সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ MWp সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা, ২ কোটি ৫০ লাখ বর্গমিটার পোল্ট্রি শেড, ৭০ শতাংশ ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সম্ভাবনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!