📌 রাশিয়া মস্কোতে আফ্রিকার প্রায় ২২টি দেশের নেতাদের নিয়ে তৃতীয় বার সম্মেলন আয়োজন করছে। পশ্চিমা প্রভাব মোকাবেলা ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সম্মেলন। মালির প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা ও ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির মতো নেতারা অংশ নেবেন
রাশিয়া মস্কোতে আফ্রিকার নেতাদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে বুধবার ও বৃহস্পতিবার তৃতীয় বার সম্মেলন আয়োজন করছে। পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব মোকাবেলা ও আন্তর্জাতিক ভারসাম্য রক্ষায় আফ্রিকাকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে মস্কো এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়া আফ্রিকার সাথে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে নিজের অবস্থান মজবুত করতে চায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৯ সালের পর তৃতীয় বার মস্কোতে আফ্রিকার নেতাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ৪৮টি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে।
- 📌 ২২টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান সম্মেলনে অংশ নেবেন, যার মধ্যে মালির প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা ও ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি অন্যতম।
- 📌 ৩৩টি নথি স্বাক্ষর হবে সম্মেলনে, যার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- 📌 রাশিয়ার আফ্রিকায় দূতাবাস সংখ্যা বাড়বে ৪৯টিতে — লাইবেরিয়ায় নতুন দূতাবাস খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
- 📌 ডিআর কঙ্গো-রুয়ান্ডা উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও সম্মেলনে উভয় দেশের প্রতিনিধি অংশ নেবেন।
📰 বিস্তারিত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আফ্রিকার সাথে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে এই সম্মেলন আয়োজন করছেন। তিনি আফ্রিকাকে ‘নব্য ঔপনিবেশিকতা’ হিসেবে পশ্চিমা প্রভাবের বিরুদ্ধে মিত্র হিসেবে দেখেন। সাবেক সোভিয়েত আমলে থেকেই আফ্রিকার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মস্কো। ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ বলেছেন, ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমরা আফ্রিকার নেতাদের স্বাভাবিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করি’।
সম্মেলনে ৪৮টি আফ্রিকান দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে, যার মধ্যে ২২টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান উপস্থিত থাকবেন। মালির প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা, যিনি ফ্রান্সের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে রাশিয়ার নিকটবর্তী হয়ে আছেন, পুতিনের সাথে বৈঠক করবেন। ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি ও রুয়ান্ডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন এনসেনগিউমভাও সম্মেলনে অংশ নেবেন। তবে ডিআর কঙ্গো ও রুয়ান্ডার মধ্যে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও উভয় দেশের প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।
রাশিয়া আফ্রিকায় কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। বর্তমানে আফ্রিকায় ৪৮টি দূতাবাস রয়েছে মস্কোর। লাইবেরিয়ায় নতুন দূতাবাস খোলার পরিকল্পনা থাকায় এই সংখ্যা বাড়বে ৪৯টিতে। এছাড়া প্রতি বছর হাজার হাজার আফ্রিকান শিক্ষার্থীকে রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেয়া হয়। সম্মেলনে ৩৩টি নথি স্বাক্ষর করা হবে, যার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
"বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমরা স্বাভাবিক মিত্র।"
"আফ্রিকার ৪৮টি দেশের প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মস্কো, রাশিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভ্লাদিমির পুতিন, ইউরি উশাকভ, আসিমি গোইতা, ফেলিক্স শিসেকেদি, জাস্টিন এনসেনগিউমভা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮টি দেশের প্রতিনিধি, ২২টি রাষ্ট্রপ্রধান, ৩৩টি নথি, ৪৯টি দূতাবাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!