📌 পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সব তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে বিশেষজ্ঞরা সরব হন। প্রকল্পের ব্যয়, সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন ও প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা গণশুনানির আয়োজন করার তাগিদ দেন।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও তথ্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেন, প্রকল্পটির ব্যয় ও প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং সংসদের পানিসম্পদবিষয়ক কমিটিতে গণশুনানির আয়োজনের দাবি জানান তাঁরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা
- 📌 প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০৩৩ সালের জুন মাসে
- 📌 পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়, দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ১ কিলোমিটার
- 📌 প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়
- 📌 প্রকল্পের সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনে ১০টি প্রশ্ন উত্থাপন করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম
- 📌 ব্যারাজ শুষ্ক মৌসুমে সরবরাহ করবে ৬৯৮ কিউমেক পানি, যার মাত্র ৩০ শতাংশ আসবে সঞ্চিত পানি থেকে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) যৌথভাবে আয়োজন করা মতবিনিময় সভায় বিশেষজ্ঞরা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতার দাবির সঙ্গে প্রকল্পটির গোপনীয়তা সাংঘর্ষিক। প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং সংসদের পানিসম্পদবিষয়ক কমিটিতে গণশুনানির আয়োজনের দাবি জানান তাঁরা।
চলতি বছরের মে মাসে সরকার পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০৩৩ সালের জুন মাসে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে বলে জানানো হয়।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ জমির পানিসংকট সমাধান করা হবে। পানিপ্রবাহ বাড়িয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি নদীকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এর ফলে সুন্দরবন অঞ্চলের লবণাক্ততা কমবে, জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়বে।
এশীয় প্রবৃদ্ধি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও বাপার সহসভাপতি নজরুল ইসলাম তাঁর প্রবন্ধে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে ১০টি প্রশ্ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যারাজ শুষ্ক মৌসুমে ৬৯৮ কিউমেক পানি সরবরাহ করবে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তার মাত্র ৩০ শতাংশ আসবে সঞ্চিত পানি থেকে। বাকি ৭০ শতাংশ পানি আসতে হবে গঙ্গার চলতি প্রবাহ থেকে। এর ফলে পাংশার উজান ও ভাটির মধ্যে পানির প্রবাহ প্রায় ৬০:৪০ অনুপাতে ভাগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
"প্রকল্পের সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনে জলাবদ্ধতা সমস্যার সুনির্দিষ্ট সমাধান নেই। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, সেটিকেও ‘রঙিন ভবিষ্যৎ চিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তন, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, মো. আলমগীর কবির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা, ২ দশমিক ১ কিলোমিটার, ৬৯৮ কিউমেক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!