📌 ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদল সভাপতি মাহির ইবনের হোস্টেল সিট বাতিল ও কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও শিক্ষার্থীদের চাপে ব্যবস্থা নেওয়া হয়
ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশে (সিবিএমসিবি)-তে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদল সভাপতি মাহির ইবনের হোস্টেলের সিট বাতিল করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কলেজ প্রশাসনের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সঙ্গে তাঁকে কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাহির ইবন সিবিএমসিবির ৫ম বর্ষের (সিবি-২৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সভাপতি
- 📌 গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাঁকে সভাপতি ও ফারহান ইশরাককে সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয়
- 📌 ১৮ আগস্ট কলেজের ৩১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাঙ্গামা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে
- 📌 শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগতদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় কলেজ শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রাজিব তুর্জ ছুরিকাঘাতের শিকার হন
- 📌 শিক্ষার্থীদের ব্যানারে প্রকাশিত বিবৃতিতে মাহির ইবনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বয়কট ও কলেজ কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়
- 📌 কলেজ উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মোর্শেদ আলমের সভাপতিত্বে জরুরি সভায় মাহির ইবনের সিট সাময়িকভাবে বাতিল ও হোস্টেল প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশে (সিবিএমসিবি)-তে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদল সভাপতি মাহির ইবনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কলেজ প্রশাসনের জরুরি সভায় তাঁর হোস্টেলের সিট সাময়িকভাবে বাতিল ও কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। একই সঙ্গে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, মাহির ইবন ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের (সিবি-২৭ ব্যাচ) ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কর্তৃক শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের কমিটিতে ফারহান ইশরাককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
গত ১৮ আগস্ট কলেজের ৩১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাঙ্গামা ও পরবর্তী সময়ে কলেজ শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রাজিব তুর্জকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগতদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় এই ঘটনা ঘটে। তাঁরা দাবি করেন, ছাত্রদল সভাপতি মাহির ইবনের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত এই ঘটনায় জড়িত ছিল।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ২০ আগস্ট যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তাঁরা মাহির ইবনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বয়কট ও তাঁর বিচার না হওয়া পর্যন্ত কলেজ কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তাঁরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, হোস্টেল প্রাঙ্গণে মাহির ইবনকে দেখা গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মোর্শেদ আলমের সভাপতিত্বে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন কলেজ কর্তৃপক্ষের অন্যান্য সদস্যরা। সভা শেষে অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে মাহির ইবনের বিরুদ্ধে উল্লিখিত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়।
"কলেজ শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হলে আমি দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় পেছন থেকে কেউ আমাকে ছুরিকাঘাত করেছে। ঘটনার সময় ছাত্রদল সভাপতি মাহির ইবন ঘটনাস্থলে ছিলেন না।"
মাহির ইবন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বহিরাগতরা নারী শিক্ষার্থীর ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্রলীগপন্থী কিছু শিক্ষার্থীর চাপে তাঁকে হোস্টেল থেকে সাময়িক বহিষ্কার ও কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি উপাধ্যক্ষের কাছে উল্লেখ করে লাইন কেটে দেন। বারবার চেষ্টা করেও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোর্শেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহির ইবন (ছাত্রদল সভাপতি), শাহরিয়ার রাজিব তুর্জ (আহত শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ম বর্ষ, সিবি-২৭ ব্যাচ, ৫ সদস্যের কমিটি, ৩১ বছর পূর্তি, ১৮ আগস্ট, ২০ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!