📌 মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সরকারকে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থানীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে বাংলাদেশ সরকারকে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রাথমিকভাবে সৌরশক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং বাজেটে এ খাতে বিভিন্ন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি বিল পরিশোধে সরকারের অতিরিক্ত খরচ ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার
- 📌 অর্থমন্ত্রীর মতে, স্থানীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি না পেলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না
- 📌 সরকার ইতিমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে
- 📌 কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধিতে অটোমেশনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য অর্থমন্ত্রীর
- 📌 অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সংস্কার কার্যক্রমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে
📰 বিস্তারিত
চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সরকারকে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রাথমিকভাবে সৌরশক্তির ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে এবং বাজেটে এ লক্ষ্যে নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এখন এই খাতে বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা দরকার।
আজ রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জায়েদি সাত্তার এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরেই থাকুক, সেগুলো নিরসন করা হবে। ডিরেগুলেশন বলা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন ততটা কঠিন। তবে সরকার এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা এক দিনে সমাধান হবে না। এ জন্য সময় লাগবে। জ্বালানি খাতে তিন মাসের মজুত নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
আর্থিক খাত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। যারা প্রণোদনার শর্ত পূরণ করতে পারবে, তারা ঋণ সহায়তা পাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না। কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানো না গেলে সরকারের কোনো উদ্যোগই সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে অটোমেশনের কোনো বিকল্প নেই। অর্থায়নের জন্য প্রচলিত উৎসের বাইরে বিকল্প অর্থায়ন সুবিধা বাড়াতে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
"অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা একটি যুগসন্ধিক্ষণে রয়েছি। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসবে না; বরং পিছিয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হবে। অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে হয়রানি বিষয়টি একটা নেতিবাচক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে। ফলে সংস্কার কার্যক্রম কাজে আসছে না। করজাল সম্প্রসারণে হয়রানি কমানোর কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য দরকার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা।"
হোসেন জিল্লুর রহমান আরও বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যা নিরসন করতে হবে। পাশাপাশি এসএমইদের ঋণসুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নজরদারির জন্য ‘ইকোনমিক রিফর্ম এক্সিলারেশন ইউনিট’ গঠনের প্রস্তাব দেন এই অর্থনীতিবিদ।
আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে। সেই সঙ্গে উচ্চ সুদের হার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হার এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জায়েদি সাত্তার বলেন, ‘আমাদের নীতিমালা এবং বাস্তবায়নের মধ্যে বেশ ফারাক রয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে আমরা যতটা উদার, পণ্য আমদানিতে যতটাই কঠিন।’ উচ্চ শুল্কহার থাকায় স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের মূল্য বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হলে কর আহরণে বিপ্লব ঘটাতে হবে। বাজেটে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি অর্জন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বাজেটের কিছু ভালো উদ্যোগ থাকলেও মুদ্রানীতিতে তার প্রতিফলন নেই, ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুদ্রানীতি সংস্কার করা জরুরি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মতিঝিল, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪-৫ বিলিয়ন ডলার, ৬০ হাজার কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!