📌 চালকল ব্যবসায়ী মো. ওসমান গনি দেউলিয়া বিষয়ক আদালতে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করলেন। আদালত ২৫২ কোটি টাকা পাওনা নিয়ে তদন্ত ছাড়াই রায় দিলে পাওনাদারদের ‘কোনো পথ নেই’ বলে আইনজীবী। উচ্চ আদালতে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন
চালকল ব্যবসায়ী মো. ওসমান গনি দেউলিয়া বিষয়ক আদালতে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করলেন। ঢাকার দেউলিয়া বিষয়ক আদালতের বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাওনা নিয়ে তদন্ত ছাড়াই রায় দিলে পাওনাদারদের ‘কোনো পথ নেই’ বলে আইনজীবী মো. রুহুল আমিন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাওনা নিয়ে দেউলিয়া ঘোষণা পেলেন চালকল ব্যবসায়ী মো. ওসমান গনি
- 📌 আদালত তদন্ত ছাড়াই রায় দিলে পাওনাদারদের ‘কোনো পথ নেই’ বলে আইনজীবী মো. রুহুল আমিন
- 📌 ২৬৭ জন পাওনাদারের মধ্যে ৭২ জনের আইনজীবী মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন
- 📌 ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি মামলা দায়ের করা হয়, বিচারকালে তিন জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়
- 📌 উচ্চ আদালতে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন আইনজীবী মো. রুহুল আমিন
📰 বিস্তারিত
পাওনাদারদের সঙ্গে আর্থিক দাবি নিষ্পত্তির অন্য কোনো উপায় না পেয়ে দেউলিয়া বিষয়ক আদালতে আবেদন করেন মো. ওসমান গনি। সোমবার ঢাকার দেউলিয়া বিষয়ক আদালতের বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম বাদী ওসমান গনিকে দেউলিয়া ঘোষণা করে রায় দেন। আইনজীবী মো. রুহুল আমিন প্রথম আলোকে জানান, বাদী ওসমান গনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা ঋণ ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের জন্য নেন। পরবর্তীতে সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে আদালতে আবেদন করেন তিনি।
আদালত কোনো তদন্ত সংস্থা দ্বারা তদন্তও করাননি। এই রায়ের ফলে বিবাদীরা মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে আইনজীবী মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘দেউলিয়া ঘোষণা হয়ে গেলে পাওনাদারদের আর টাকা পাওয়ার কোনো পথ নেই। এখন তাদের আর কিছুই করার নেই। এই আইনের সুযোগ নিচ্ছে কিছু ব্যবসায়ী।’ আইনজীবী জানান, উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি মো. ওসমান গনি বাদী হয়ে ২৬৭ জনকে বিবাদী করে দেউলিয়া বিষয়ক আইনের ১০ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিন জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বাদী বলেন, আর্থিক দাবি নিষ্পত্তির জন্য পাওনাদারদের সঙ্গে সমঝোতা বা অন্য কোনো সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুঁজে না পেয়ে বাধ্য হয়ে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেছেন তিনি।
মামলায় ২৬৭ জন বিবাদী রয়েছেন। এর মধ্যে ১ থেকে ৭ নম্বর বিবাদী বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ৮ থেকে ২৬৭ নম্বর বিবাদী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রোপ্রাইটরশিপ প্রতিষ্ঠান। বাদী এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদী বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে তিনটি অটোমেটিক রাইস মিল পরিচালনা করতেন। ব্যবসা পরিচালনার সময় নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা ঋণের অর্থ ও কিস্তি পরিশোধ করতেন বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওসমান গনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাওনা বা দাবিকৃত অর্থও পরিশোধ করতে সক্ষম হননি। এর আগে ২০২৪ সালে নওগাঁয় ওসমান গনির কাছে পাওনাদারেরা পাওনা টাকা চেয়ে মানববন্ধনও করেন।
"যেহেতু রায় ঘোষণা হয়ে গেছে দেউলিয়া করে, তাই এখন পাওনাদারেরা আর টাকা পাবে না। তাদের আর কিছুই করার নেই। এই আইনের সুযোগ নিচ্ছে কিছু ব্যবসায়ী।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ওসমান গনি, মো. রুহুল আমিন, বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাওনা, ২৬৭ জন বিবাদী, ৭২ জন আইনজীবী, ৩০ জানুয়ারি ২০২৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!