📌 বাংলাদেশে নতুন কর আইনে লভ্যাংশের ওপর করহার কমলেও উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধা হলেও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর করের চাপ বেড়েছে। নতুন নিয়মে লভ্যাংশের ওপর ১৫ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের ৩০-৩৮ শতাংশের তুলনায় কম হলেও উৎসে কর বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের করব্যবস্থা কীভাবে কাজ করছে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে
বাংলাদেশে লভ্যাংশ করের নতুন নিয়মে উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত করভার উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর করের চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন কর আইন ২০২৬–এর মাধ্যমে ২০২৬–২৭ করবর্ষ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির লভ্যাংশ আয়ের ওপর সরাসরি ১৫ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের ৩০ থেকে ৩৮ শতাংশের তুলনায় কম হলেও উৎসে করের হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই পরিবর্তন উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক হলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উদ্যোক্তাদের করভার কমলেও লভ্যাংশের ওপর ১৫ শতাংশ সরাসরি কর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের ৩০-৩৮ শতাংশের তুলনায় কম। আগের নিয়মে লভ্যাংশ আয়কে সাধারণ আয়ের সঙ্গে যোগ করে কর দিতে হতো, কিন্তু নতুন নিয়মে এটি অগ্রিম আয়কর হিসেবে গণ্য হবে।
- 📌 বেতন বনাম লভ্যাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য নতুন নিয়মে লভ্যাংশ নেওয়া ব্যক্তিগত করভার কমিয়ে দিয়েছে। আগের সময় পরিচালকরা বেতন নিতেন, কারণ বেতন খরচ হিসেবে দাবি করা যায় এবং করভার কমে যেত। নতুন নিয়মে একজন শীর্ষ উদ্যোক্তা ব্যক্তিগত করভার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে ১৫ শতাংশ কর দেবেন।
- 📌 ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর বাড়তি চাপ লভ্যাংশের ওপর উৎসে কর বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। ধরা যাক, একজন ব্যক্তির ৩ লাখ টাকা লভ্যাংশ আয় রয়েছে, তাহলে শুরুতেই ৪৫ হাজার টাকা কর কেটে রাখা হবে।
- 📌 বাংলাদেশের করব্যবস্থা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ভারতের মতো দেশে লভ্যাংশের ওপর সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের বেশি কর দিতে হতে পারে, কিন্তু উৎসে কর ১০ শতাংশ। মালয়েশিয়ায় ১ লাখ রিঙ্গিতের সীমা পর্যন্ত কোনো কর নেই, ভিয়েতনামে মাত্র ৫ শতাংশ কর।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে লভ্যাংশ করের জটিলতা দীর্ঘদিন থেকে ছিল। আগের নিয়মে লভ্যাংশ আয়কে সাধারণ আয়ের সঙ্গে যোগ করে কর দিতে হতো। উদাহরণস্বরূপ, ১০০ টাকা লভ্যাংশ আয় করলে ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা কর দিতে হতো। নতুন কর আইন ২০২৬–এর মাধ্যমে এখন লভ্যাংশের ওপর সরাসরি ১৫ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তন উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক হলেও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য নতুন নিয়মে বেতন বনাম লভ্যাংশের সমীকরণ বদলে গেছে। আগের সময় পরিচালকরা কোম্পানি থেকে লভ্যাংশ না নিয়ে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিতেন, কারণ বেতন খরচ হিসেবে দাবি করা যায় এবং করভার কমে যেত। নতুন নিয়মে একজন শীর্ষ উদ্যোক্তা, যিনি আগে ৩০ শতাংশ কর দিতেন, এখন কোম্পানি থেকে লভ্যাংশ নিলে মাত্র ১৫ শতাংশ কর দেবেন। এটি ব্যক্তিগত করভার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পরিবর্তন ইতিবাচক নয়। লভ্যাংশের ওপর উৎসে কর বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তির ৩ লাখ টাকা লভ্যাংশ আয় থাকলে শুরুতেই ৪৫ হাজার টাকা কর কেটে রাখা হবে। যাদের মোট আয় করমুক্ত সীমার নিচে বা ১০ শতাংশ ধাপে রয়েছে, তাদেরও এই কর কাটা হবে।
বাংলাদেশের করব্যবস্থা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কীভাবে কাজ করছে তা বিশ্লেষণ করলে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভারতের মতো দেশে লভ্যাংশের ওপর সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের বেশি কর দিতে হতে পারে, কিন্তু উৎসে কর ১০ শতাংশ। মালয়েশিয়ায় ১ লাখ রিঙ্গিতের সীমা পর্যন্ত কোনো কর নেই, ভিয়েতনামে মাত্র ৫ শতাংশ কর। বাংলাদেশের নতুন নিয়মে লভ্যাংশের ওপর সরাসরি ১৫ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক হলেও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
"কোম্পানি কেবল কর-পরবর্তী মুনাফা থেকেই লভ্যাংশ দিতে পারে। ফলে কৃত্রিমভাবে অতিরিক্ত খরচ বা অযৌক্তিক উচ্চ পরিচালন–সুবিধা না দেখিয়ে পরিচ্ছন্ন মুনাফা থেকে লভ্যাংশ প্রদানে উৎসাহিত হবেন উদ্যোক্তারা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: উদ্যোক্তারা, পরিচালকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ শতাংশ (নতুন করহার), ৩০-৩৮ শতাংশ (পুরাতন করহার), ৩ লাখ টাকা (বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!