📌 জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) দুটি পোশাক কারখানার বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধা অপব্যবহার করে ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে। রিয়াজ নিটওয়্যার ও লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত আমদানি করা কাপড় অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলা, রফতানি তথ্য মিথ্যা দেখানো এবং মূসক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) দুটি রফতানিমুখী পোশাক কারখানার বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে মোট ১০২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে। রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ও লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত আমদানি করা কাপড় অবৈধভাবে সরিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি, রফতানি তথ্য মিথ্যা দেখানো এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সিআইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডর বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) আওতায় আমদানি করা ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের মধ্যে মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ কেজি মজুদ পাওয়া গেছে — অর্থাৎ মোটের ০.৮৯ শতাংশ।
- 📌 লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডর বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় কারখানায় পাওয়ায় না।
- 📌 দুই প্রতিষ্ঠানই বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে কাপড় অবৈধভাবে সরিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করেছে। রিয়াজ নিটওয়্যারের ক্ষেত্রে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা, লিশা টেক্সের ক্ষেত্রে ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
- 📌 লিশা টেক্সর বিরুদ্ধে কম মূল্যে রফতানি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। অনুমোদনের তুলনায় বেশি পোশাক রফতানি করলেও চুক্তিমূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখানো হয়েছে।
- 📌 মূসক ফাঁকির ক্ষেত্রেও অনিয়ম ধরা পড়েছে। লিশা টেক্স ৪ লাখের বেশি পিস পোশাকের কাঁচামাল স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে, কিন্তু মূসক দেওয়া হয়নি।
📰 বিস্তারিত
সিআইসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউডি আওতায় বন্ড সুবিধায় মোট ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশ কাপড় কারখানার গুদামে পাওয়া যায়নি। রফতানির হিসাবেও এসব কাপড়ের কোনো তথ্য মেলেনি। অনুসন্ধান দল কারখানার পুরো প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ কেজি ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের মজুদ পায় — অর্থাৎ আমদানি করা মোট কাপড়ের মাত্র ০.৮৯ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি জানান, গত এক মাসে এ ধরনের কাপড় দিয়ে কোনো পোশাক উৎপাদন বা রফতানি করা হয়নি। অথচ বিল অব এন্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই সংশ্লিষ্ট ইউডিগুলোর বিপরীতে প্রায় ৩৯০ টন কাপড় আমদানি করা হয়েছে।
লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে কম মূল্যে রফতানি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। অনুমোদনের তুলনায় বেশি পোশাক রফতানি করলেও রফতানিমূল্য দেখানো হয়েছে চুক্তিমূল্যের চেয়ে কম। এছাড়া ইউডির বাইরে স্থানীয় ঋণপত্রের মাধ্যমে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন শর্ত পূরণ না করার তথ্য পেয়েছে সিআইসি। প্রতিষ্ঠানটি চার লাখের বেশি পিস পোশাকের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে, কিন্তু মূসক দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমে মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
"বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে এ ধরনের অভিযান ও অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।"
সিআইসি অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ব্যাংক, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। রিয়াজ নিটওয়্যারের ক্ষেত্রে ৩১টি ইউডির বিপরীতে কোনো রফতানি হয়নি, সেগুলোর মধ্যে ৩০টিতে আমদানি করা পুরো কাপড়ই অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে, আংশিক রফতানি হওয়া ১০টি এন্ট্রিতেও আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৫৩ শতাংশের হিসাব পাওয়া যায়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ (কারখানাগুলো)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা (মোট রাজস্ব ফাঁকি), ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা (রিয়াজ নিটওয়্যার), ৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা (লিশা টেক্স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!