📌 এশিয়ার প্রধান শিল্প দেশগুলোর উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি মন্থর হচ্ছে। এআই ও চিপ খাতে বিনিয়োগের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যেখানে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের পিএমআই অক্টোবরে কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও খাদ্য-জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে
এশিয়ার প্রধান শিল্প ও প্রযুক্তি উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি অক্টোবরে মন্থর হচ্ছে। এআই ও চিপ খাতে বিপুল বিনিয়োগের ফলাফল নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্বল ভোগব্যয়ের চাপের কারণে এশিয়ার রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীন: পিএমআই ৫২.১ থেকে কমে ৫২.০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণের গতি মন্থর হচ্ছে।
- 📌 জাপান: পিএমআই ৫৪.১ থেকে নেমে ৫৩.৩ দশমিক পয়েন্টে, গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে ধীর প্রবৃদ্ধি।
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়া: পিএমআই ৫৩.৯ থেকে কমে ৫১.৩ দশমিক পয়েন্টে, গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন সম্প্রসারণ।
- 📌 তাইওয়ান: পিএমআই ৫৬.৭ থেকে নেমে ৫৪.৯ দশমিক পয়েন্টে, উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি কমেছে।
- 📌 ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ দ্রুত হচ্ছে।
- 📌 টোকিওভিত্তিক অর্থনীতিবিদ তোরু নিশিহামা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ার ফলে এশিয়ার অর্থনৈতিক দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে।
- 📌 আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ সালে এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪.৪ শতাংশ।
📰 বিস্তারিত
এশিয়ার প্রধান শিল্প ও প্রযুক্তি উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি অক্টোবরে মন্থর হচ্ছে। এআই ও চিপ খাতে বিপুল বিনিয়োগের ফলাফল নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্বল ভোগব্যয়ের চাপের কারণে এশিয়ার রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
গতকাল প্রকাশিত বেসরকারি জরিপে দেখা গেছে, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণের গতি কমেছে। চীনের পিএমআই অক্টোবরে ৫২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৫২.১ পয়েন্ট থেকে কমেছে। জাপানের পিএমআই ৫৪.১ থেকে কমে ৫৩.৩ দশমিক পয়েন্টে নেমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় পিএমআই ৫৩.৯ থেকে কমে ৫১.৩ দশমিক পয়েন্টে এসেছে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তাইওয়ানের পিএমআইও ৫৬.৭ থেকে কমে ৫৪.৯ দশমিক পয়েন্টে নেমেছে।
টোকিওভিত্তিক দাই-ইচি লাইফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ তোরু নিশিহামা বলেছেন, এআই ও চিপের চাহিদা এশিয়ার অর্থনৈতিক দুর্বলতাগুলো আড়াল করে রেখেছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ার ফলে সেই অবস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমাচ্ছে এবং চীনের সঙ্গে মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানিকারকদের চাপ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ সালে এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪.৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের তুলনায় এই হার কম। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং এআই খাতের উত্থানের সম্ভাব্য সংশোধনকে এ অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
"চিপ ও এআইয়ের জোরালো চাহিদা এশিয়া ও বিশ্ব অর্থনীতির দুর্বলতাগুলো এত দিন আড়াল করে রেখেছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেই পরিস্থিতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তোরু নিশিহামা (অর্থনীতিবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫২.০, ৫৪.১, ৫৩.৩, ৫৩.৯, ৫১.৩, ৫৬.৭, ৫৪.৯, ৪.৮, ৪.৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!