📌 গ্রীষ্মকালে বাসাবাড়িতে ফ্যানের উচ্চ চাহিদা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের গবেষণা অনুযায়ী, বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহার করলে ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। এছাড়াও বছরে ৮ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে
গ্রীষ্মকালে বাসাবাড়িতে ফ্যানের উচ্চ চাহিদা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে। রাত ৯টার দিকে সর্বোচ্চ ফ্যান ব্যবহারে ৫ হাজার ২১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হয়। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) এর গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাধারণ ফ্যান বদলে কম বিদ্যুৎ খরচের বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহার করলে ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা কমানো সম্ভব। প্রতিবেদনটি আজ সোমবার প্রকাশিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গ্রীষ্মকালে রাত ৯টার দিকে বাসাবাড়িতে ফ্যান ব্যবহারে ৫ হাজার ২১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হয়
- 📌 বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহার করলে ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব
- 📌 দেশে মোট ফ্যানের মাত্র ১.৪ শতাংশই বিএলডিসি ফ্যান, যা সাধারণ ফ্যানের তুলনায় ৩৫ ওয়াট কম বিদ্যুৎ খরচ করে
- 📌 বছরে ৮ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহারে
- 📌 জরিপে অংশ নেওয়া ৯৬ শতাংশ পরিবার বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছে
- 📌 সাধারণ ফ্যানের দাম ২ হাজার টাকা, বিএলডিসি ফ্যানের দাম ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ৩০০ টাকা
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয় আবাসিক খাতে। এ ক্ষেত্রে ফ্যান ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহারে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোও গ্রীষ্মকালে দুটি ফ্যান ব্যবহার করে। এতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা বাড়ে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারায় অনেক সময় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়।
গবেষণা প্রতিবেদন ‘হাউসহোল্ড স্পেস কুলিং ইন বাংলাদেশ: রোল অব এনার্জি-এফিশিয়েন্ট ফ্যানস’ শীর্ষক। প্রতিবেদনটি লিখেছেন আইইইএফএর বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানিবিশ্লেষক শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ওপর চাপও কমবে। তবে বিদ্যুৎ বিল কমানোর আগ্রহ থাকলেও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যান সম্পর্কে মানুষের ধারণা কম।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ পরিবারই বাজারে এ ধরনের ফ্যান পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে অবগত নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৯১৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহার করলে। এর আর্থিক মূল্য ৮ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা (৭৩ কোটি মার্কিন ডলার)।
বিগত ২৬ জেলার ৪৩৫টি পরিবারকে মাসিক আয়ের ভিত্তিতে জরিপ চালিয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৬ শতাংশ পরিবার বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় অনেক পরিবারের পক্ষে এসব ফ্যান কেনা কঠিন। একটি সাধারণ ফ্যানের দাম প্রায় ২ হাজার টাকা, অন্যদিকে বিএলডিসি ফ্যানের দাম ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ৩০০ টাকা।
"বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জন্য চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে। এতে পিডিবির ওপর চাপও কমবে।"
প্রতিবেদনে সাতটি সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বাড়াতে একটি জাতীয় কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যান এবং এসব ফ্যান ব্যবহারে কীভাবে বিদ্যুৎ বিল কমে, তা মানুষকে জানানো প্রয়োজন। ক্রেতারা যাতে সহজেই বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যান চিনতে পারেন, সে জন্য ফ্যানের মান নির্ধারণ এবং লেবেল–সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হলে সুফল পাওয়া যাবে। স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য বিএলডিসি ফ্যানের দাম কমাতে হবে। কিস্তিতে ফ্যানের দাম পরিশোধে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা যেতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (২৬ জেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শফিকুল আলম (জ্বালানিবিশ্লেষক, আইইইএফএ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট (বিদ্যুৎ সাশ্রয়), ৮ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা (বছরে সাশ্রয়), ১.৪ শতাংশ (বর্তমান বিএলডিসি ফ্যানের অনুপাত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!