📌 গুম হওয়ার ৬১ দিন পর ভারতে উদ্ধারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, তাঁকে ছোট একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল যেখানে ছিল না স্বাভাবিক জীবনের কোনো সুযোগ। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন
গুম হওয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভারতে উদ্ধারের পর পরিবারের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগের মুহূর্তে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি নিজের গুম হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভারতে গুম হওয়ার ৬১ দিন পর উদ্ধার হন
- 📌 তাঁকে একটি ৮ ফুট বাই ৪ ফুটের ছোট কক্ষে ৬১ দিন আটকে রাখা হয়েছিল
- 📌 কক্ষে ছিল না স্বাভাবিক ঘুম বা বিশ্রামের ব্যবস্থা; ছিল শুধু একটি কম্বল ও বালিশ
- 📌 খাবার দেওয়া হতো এক বেলা নাশতা ও দুই বেলা খাবার হিসেবে
- 📌 অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার সুযোগ ছিল না
- 📌 চোখ বাঁধা অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়
- 📌 আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন
📰 বিস্তারিত
ভারতে গুম হওয়ার পর উদ্ধারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, তাঁকে একটি ছোট কক্ষে ৬১ দিন আটকে রাখা হয়েছিল যেখানে ছিল না স্বাভাবিক জীবনের কোনো সুযোগ। কক্ষটি ছিল মাত্র ৮ ফুট বাই ৪ ফুটের মতো। সেখানে একটি পানির কল ও শৌচকার্যের জন্য একটি চিকন ছিদ্র ছিল। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেঝেতে একটি কম্বল বিছানো ছিল। সেটিই ছিল শোবার জায়গা। স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর কোনো পরিবেশ ছিল না।’
তাঁকে এক বেলা নাশতা ও দুই বেলা খাবার দেওয়া হতো বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পানিও দেওয়া হতো; কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাঁর হার্টের সমস্যা ছিল। দরজার বাইরে সব সময় একটি বৈদ্যুতিক পাখা চলত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দরজার ওপর সামান্য ফাঁকা জায়গা ছিল। সেখান দিয়ে বাতাস আসত।’ সেই বাতাস না থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার মতো অবস্থা হতো বলে মনে করতেন তিনি।
একদিন খাবার দিতে এসে তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে আটককারীরা দরজা খোলে। তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। কয়েক ঘণ্টা গাড়িতে চলার পর একটি জায়গায় থামানো হয়। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করানো হয়। পরে রাত গভীর হলে আবার গাড়িতে তোলা হয়। রাস্তার অবস্থা পায়ের স্পর্শ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন তিনি। পরে জিপের মতো একটি গাড়িতে তাঁকে নেওয়া হয়।
‘আমি বিদেশের মাটিতে পাগল অবস্থায় মারা যাব, আমার পরিবার হয়তো আমার কবরও দেখতে পারবে না—এমন ভয়ও পেয়েছিলাম।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬১ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!