📌 ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় অন্তত ২০টি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। উৎপাদন কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হয়েছে
ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অন্তত ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিল্প পুলিশের তথ্যমতে, গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় কারখানাগুলোর উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলের অন্তত ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হয়েছে
- 📌 গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে
- 📌 ময়মনসিংলের শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি সরাসরি গ্যাসনির্ভর
- 📌 টয়ো স্পিনিং মিলসে ৪৩টি মেশিন বন্ধ রয়েছে, উৎপাদন কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ
- 📌 ভালুকা এলাকায় গ্যাস সরবরাহের চাপ কমে দাঁড়িয়েছে ৩০-৫০ পিএসআইয়ে
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল জানান, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমতে শুরু করে। সাধারণত কারখানাগুলো বিকেল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত উৎপাদন চালায়। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক না হওয়ায় শ্রমিকরা যথাসময়ে কারখানায় উপস্থিত হলেও উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হয়নি।
শিল্প পুলিশ-৫ সূত্র জানায়, গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল, বিএসপি স্পিনিং মিলসহ অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়।
ময়মনসিংলের শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কারখানা সরাসরি গ্যাসনির্ভর। বর্তমানে প্রায় সব গ্যাসনির্ভর কারখানাই সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মুখে পড়েছে। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালুর চেষ্টা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
"গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা যথাসময়ে কারখানায় উপস্থিত হলেও উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হয়নি।"
গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলগুলো। গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রয়েছে। পিডিবির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাত্র সাতটি মেশিন চালু রাখা হয়েছে। ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসেও একই অবস্থা। প্রতিষ্ঠানটির ৩০টি মেশিন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সেও উৎপাদন কমেছে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে স্বাভাবিক গ্যাসচাপ না থাকায় প্রায় ৪০ শতাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে সিরামিক শিল্পের এক্সিলেন্ট সিরামিকসে গ্যাসের অভাবে ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গোপীনাথ কাঞ্জিলাল (সহকারী পুলিশ সুপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি কারখানা, ৫০ শতাংশ উৎপাদন হ্রাস, ২৯৩টি কারখানা, ৯৯টি গ্যাসনির্ভর কারখানা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!