📌 লক্ষ্মীপুরের মিরিকপুর এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে ভুয়া স্লিপের মাধ্যমে ৪৮ জন গ্রাহকের ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। পিবিআই তদন্তে উঠে এসেছে প্রতারণার বিস্তারিত চিত্র
লক্ষ্মীপুরের মিরিকপুর এলাকায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে ভুয়া স্লিপের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন প্রকাশ খোকন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় মামলা রুজু হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অভিযুক্ত মো. নাছির উদ্দিন প্রকাশ খোকন স্বীকার করেছেন ভুয়া স্লিপের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেছেন
- 📌 ৪৮ জন গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে
- 📌 অভিযুক্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন মো. শহিদুল্লাহ প্রকাশ জিয়াও
- 📌 ২০১৯ সাল থেকে মিরিকপুর এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের দায়িত্বে ছিলেন নাছির উদ্দিন
- 📌 ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন অভিযুক্ত
📰 বিস্তারিত
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের লক্ষ্মীপুরের মিরিকপুর এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে ঘটা প্রতারণার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. নাছির উদ্দিন প্রকাশ খোকন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর তা ব্যাংকের মূল হিসাবে না জমা দিয়ে নিজেরা আত্মসাৎ করেছেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় অভিযুক্তরা ভুয়া সার্ভারে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করতেন। এরপর সিস্টেমে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে বলে জানিয়ে ভুয়া জমা স্লিপ গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতেন। অভিযুক্তরা গ্রাহকদের জানাতেন যে পরে টাকা জমা করে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেরা ভাগ করে নিতেন।
এই প্রতারণার শিকার হন ৪৮ জন গ্রাহক। তাদের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গ্রাহকরা যখন হিসাব হালনাগাদ করতে গিয়ে টাকা না পেয়ে বিপাকে পড়েন, তখনই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার পর আউটলেটে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরবর্তীতে গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের লক্ষ্মীপুর এরিয়া ম্যানেজার আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
পিবিআই-এর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. কামাল আব্বাস আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে নাছির উদ্দিন অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত ছক প্রকাশ করেন। গত ২২ আগস্ট ২০২৬ তিনি বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে।
"গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর তা ব্যাংকের মূল হিসাবে জমা না দিয়ে নিজেরা আত্মসাৎ করেছি। ভুয়া স্লিপ প্রদান করে গ্রাহকদের প্রতারণা করেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরিকপুর, লক্ষ্মীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. নাছির উদ্দিন প্রকাশ খোকন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮ জন গ্রাহক, ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!