📌 মানিকগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে আখ চাষের পরিধি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় দ্বিগুণ লাভের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জেলা কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার ৫২৪ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা ৫১০ হেক্টরের চেয়ে বেশি
মানিকগঞ্জ জেলায় শুরু হয়েছে আখ কাটার ব্যস্ত সময়। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিপক্ব আখ কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। খেত থেকে আখ তুলে তা পরিষ্কার করে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভালো ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় এবার লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মানিকগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫২৪ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে
- 📌 জেলা কৃষি অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫১০ হেক্টর জমিতে আখ চাষের
- 📌 উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ হাজার ২৪৫ টন, তবে প্রকৃত উৎপাদন তার চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা
- 📌 সিংগাইর, সাটুরিয়া ও সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়েছে
- 📌 প্রতি বিঘা জমিতে আখ চাষে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা
- 📌 বর্তমানে প্রতি বিঘা আখ বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত
- 📌 খেত থেকে সরাসরি আখ বিক্রি হচ্ছে প্রতি আখ ২০ থেকে ৪০ টাকা দরে
- 📌 কৃষকেরা উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্যমূল্য দাবি করেছেন
📰 বিস্তারিত
মানিকগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে আখ কাটার ধুম শুরু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার খেতজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কেউ আখ কাটছেন, কেউ পাতা ও আঁশ পরিষ্কার করছেন, আবার কেউবা আঁটি বেঁধে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার সাত উপজেলায় ৫১০ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৫ হাজার ২৪৫ টন। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার জেলায় ৫২৪ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে।
সিংগাইর, সাটুরিয়া ও সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়। এ ছাড়া ঘিওর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও দিন দিন আখের আবাদ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার তরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা কাদা-পানি মাড়িয়ে খেত থেকে আখ কাটছেন। পরে আখের পাতা ও আঁশ পরিষ্কার করে আঁটি বেঁধে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তরা এলাকার কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে আখ চাষে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আখের পাশাপাশি মুলা, ধনেপাতা ও লালশাক চাষ করে বাড়তি আয় করেছি। ইতিমধ্যে খেত থেকেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করেছি।’
সিংগাইরের বায়রা ইউনিয়নের গেরাদিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমি সাত বিঘা জমিতে উন্নত জাতের আখ চাষ করেছি। চারা রোপণ, পরিচর্যা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচসহ প্রতি বিঘায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে প্রতি বিঘা আখ ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’
‘আখ একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল। একই জমিতে সাথি ফসল চাষের সুযোগ থাকায় কৃষকদের মধ্যে আখ চাষের আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে মানিকগঞ্জের আখ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন উপকরণও দেওয়া হচ্ছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মানিকগঞ্জ জেলা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল মান্নান, আব্দুল কাদের, সাজাহান সিরাজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১০ (হেক্টর), ৫২৪ (হেক্টর), ২৫ হাজার ২৪৫ (টন), ৩০ হাজার (টাকা), ৫০ হাজার (টাকা), ৮০ হাজার (টাকা), ২০ (টাকা), ৪০ (টাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!