📌 ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস সংকটের অবসানে এলএনজি সরবরাহ পুনরুদ্ধার। সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ ক্ষমতায় ও এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান
২৫ দিনের তীব্র গ্যাস সংকটের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের দুটি টার্মিনালের মধ্যে সামিট পুরো ক্ষমতায় ও এক্সিলারেট আংশিক চালু হওয়ায় ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও পুরোপুরি সংকট কাটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে ভোর চারটায় ৪৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে
- 📌 এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ হচ্ছে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস
- 📌 সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট ও এক্সিলারেটের ৬০ কোটি ঘনফুট
- 📌 এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনার পর সরবরাহ কমে গিয়েছিল
- 📌 দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, সরবরাহ ছিল মাত্র ১৭৩ কোটি ঘনফুট
📰 বিস্তারিত
জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারকি করে পেট্রোবাংলা। আর আমদানির কাজটি করে পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। সামিট ও এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল দুটি মহেশখালীতে অবস্থিত। সামিটের টার্মিনালটি পূর্ণ ক্ষমতায় চালু হলেও এক্সিলারেটের টার্মিনালটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আংশিক সরবরাহ শুরু হয়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান বলেন, দুটি টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। সামিটের টার্মিনালটি পূর্ণ ক্ষমতায় চলছে। এক্সিলারেটের টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আংশিক সরবরাহ শুরু হয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি মিলবে।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গ্যাস সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর ফলে রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিং বেড়ে যায়। সিএনজিচালিত যানবাহনগুলো ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি পড়ে যায়।
এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটি বয়লারের ক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে গতকাল শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ত্রুটি মেরামতের পর আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে হলে ৭২ ঘণ্টা সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। এটি চালু করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে সামিটের টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ গত সোমবার কমিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সরবরাহ ছিল ১০ কোটি ঘনফুট। বৃহস্পতিবার বিকেলে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার ভিটলের একটি জাহাজ মহেশখালীতে আসার পর সন্ধ্যায় সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। খালাস শেষ হতে আট ঘণ্টা সময় লাগে। এর আগে সন্ধ্যা ছয়টায় টার্মিনালের মজুত থেকে সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। ভোররাতে সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬ কোটি ঘনফুটে। সামিট আরও ৭-৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
"দুটি টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে এখন। সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় আর এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক সরবরাহ করছে। সরবরাহ বাড়ায় গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহেশখালী, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আবদুল মান্নান (পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬ কোটি ঘনফুট, ৩০ কোটি ঘনফুট, ৫০ কোটি ঘনফুট, ৬০ কোটি ঘনফুট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!