📌 চামড়াশিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে সরকার সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ট্যানারি স্থানান্তর, এলডাব্লিউজি সনদ বাধ্যতামূলককরণ, নতুন সিইটিপি নির্মাণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
বাংলাদেশের চামড়াশিল্পকে বৈশ্বিক মান অর্জনের লক্ষ্যে সরকার সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘অ্যাডভান্সিং বাংলাদেশ’স লেদার সেক্টর: চ্যালেঞ্জেস, অপরচুনিটিজ অ্যান্ড রিফর্ম’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চামড়াশিল্প পুনরুজ্জীবনে সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার
- 📌 হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নে দুর্বলতার কারণে শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ‘গ্রেসফুল এক্সিট’ সুবিধা চালু করা হবে
- 📌 ভবিষ্যতে ট্যানারি ব্যবসায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স ও এলডাব্লিউজি সনদ বাধ্যতামূলক করা হবে
- 📌 কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ লেদার’ ব্র্যান্ড গড়ে তোলা হবে
- 📌 সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) সক্ষমতা ২৫ হাজার ঘনমিটারের বিপরীতে কার্যকরভাবে মাত্র ১৪ থেকে ১৫ হাজার ঘনমিটার
- 📌 নতুন বিশ্বমানের সিইটিপি নির্মাণ ও বিদ্যমানটির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
- 📌 বড় ট্যানারিগুলোর জন্য নিজস্ব ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে
- 📌 ট্যানারির কঠিন বর্জ্য থেকে ট্যালো ও হাড়ের গুঁড়া তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা
- 📌 ২০২৭ সালের মধ্যে সাভারে চামড়া ও অন্যান্য শিল্পের জন্য দক্ষতা ও ডিজাইন উন্নয়ন কেন্দ্র চালুর লক্ষ্য
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের চামড়াশিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে সরকার সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে এর বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে দেশের চামড়াশিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বিনিয়োগ করেও যারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী নন, তাদের জন্য ‘গ্রেসফুল এক্সিট’ সুবিধা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য খাতে জায়গা তৈরি হবে।
ভবিষ্যতে ট্যানারি ব্যবসায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডাব্লিউজি) সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে দেশে প্রক্রিয়াজাত করে জুতা, ব্যাগ ও উচ্চমূল্যের চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ লেদার’ ব্র্যান্ড গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
চামড়াশিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) নিয়ে আলোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে প্রকল্পিত ২৫ হাজার ঘনমিটার সক্ষমতার বিপরীতে কার্যকরভাবে মাত্র ১৪ থেকে ১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন করা সম্ভব হচ্ছে। নতুন বিশ্বমানের সিইটিপি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সিইটিপি সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বড় ট্যানারিগুলোর জন্য নিজস্ব ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট ট্যানারিগুলো কেন্দ্রীয় সিইটিপি ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া ট্যানারির কঠিন বর্জ্য থেকে ট্যালো, হাড়ের গুঁড়া ও অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরির জন্য কয়েকটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকাকে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহাখালী, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (বাণিজ্যমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ হাজার ঘনমিটার, ১৪ থেকে ১৫ হাজার ঘনমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!