📌 খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার লতা রায় তিন বছর আগে রাস্তার পাশে ছোট দোকান খুলে স্বাবলম্বী হন। নিজের উৎপাদিত সবজি ও স্থানীয় পণ্য বিক্রির মাধ্যমে তিনি এখন স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গুপ্তমারী গ্রামের লতা রায় তিন বছর আগে রাস্তার পাশে ছোট একটি দোকান খুলেছিলেন। সেই দোকানই এখন তাঁর সচ্ছলতার ঠিকানা হয়ে উঠেছে। নিজের ও প্রতিবেশীদের উৎপাদিত সবজি ও স্থানীয় পণ্য বিক্রির মাধ্যমে তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গুপ্তমারী গ্রামের লতা রায় তিন বছর আগে রাস্তার পাশে ছোট দোকান খোলেন
- 📌 নিজের ও প্রতিবেশীদের উৎপাদিত সবজি ও স্থানীয় পণ্য বিক্রির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হন
- 📌 দোকানে বিক্রি হয় কুমড়ার ফুল, শসা, বরবটি, উচ্ছে, লেবু, ডুমুর, পাকা ও কাঁচা পেঁপে, ঘাটকোল, কচু, মালঞ্চ ও তেলাকুচা শাকসহ বিভিন্ন পণ্য
- 📌 দোকানটির মাধ্যমে শরিকদের কাছ থেকেও পণ্য সংগ্রহ করে বিক্রি করেন এবং হিসাব রাখেন
- 📌 লতা রায়ের দুই সন্তানের একজন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন
📰 বিস্তারিত
লতা রায়ের দোকানটি খুলনা-চালনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নিজের ও প্রতিবেশীদের উৎপাদিত সবজি ও পণ্য বিক্রি করেন। দোকানে সাজানো থাকে কুমড়ার ফুল, শসা, বরবটি, উচ্ছে, লেবু, ডুমুর, পাকা ও কাঁচা পেঁপে, ঘাটকোল, কচু, কুমড়া, হেলেঞ্চা, মালঞ্চ ও তেলাকুচা শাক, কলমিডাঁটা, মুরগির ডিম, পাকা তেঁতুল, পাকা তালের ক্বাথ ও তাল। বেশির ভাগ পণ্যই তাঁদের নিজেদের উৎপাদিত।
লতার স্বামী পরিতোষ রায় দরজির কাজ করেন। তাঁদের বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া একটি মাছের ঘের রয়েছে। ঘেরের পাড়ে লতা, তাঁর স্বামী ও পরিবারের অন্যরা মিলে সবজি চাষ করেন। সকালে বাড়ির খেত থেকে সবজি তুলে বাছাই করে ও গুছিয়ে দোকানে নিয়ে আসেন লতা। দোকানে বিক্রি হওয়া পণ্যের টাকা থেকে সামান্য অংশ রেখে সন্ধ্যায় শরিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেন তিনি।
লতা রায়ের দুই সন্তানের একজন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, অন্যজন উচ্চমাধ্যমিকে পড়ে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন লতা। এখন সেই পড়াশোনা কাজে লাগছে দোকানের হিসাব রাখতে। তিনি প্রতিদিন ভোর চারটার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠেন এবং রান্নাবাড়া শেষ করে দিনের জন্য প্রয়োজনীয় সবজি তোলেন। এরপর সেগুলো বাছাই করে ও গুছিয়ে বেলা ১১টার দিকে দোকানে আসেন।
খুলনা নগরের ইকবালনগর এলাকার বাসিন্দা অলোক বৈদ্য দোকানটি থেকে কুমড়ার ফুল কিনছিলেন। তিনি বলেন, সব সময় গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হয় না। তাই এমন জায়গা থেকে গ্রামের টাটকা সবজি কিনতে ভালো লাগে। লতা বলেন, ‘ক্রেতা বেশির ভাগই তো শহরের। তাঁরা তরতাজা জিনিস পছন্দ করেন। অনেকেই ডুমুর, ঘাটকোলের মতো সবজি কীভাবে রান্না করতে হয়, জানেন না। তাই জেনে নেন।’
‘আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি, খরচ করার স্বাধীনতা আছে।’ — লতা রায়
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা-চালনা মহাসড়কের পাশে, বটিয়াঘাটা উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লতা রায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দিনে বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৫০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!