📌 বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ছয় হাজার পাঁচ কোটি টাকা। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বদলে ছাড় দেওয়ার নীতিতে আটকে আছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলিতে ঋণ খেলাপি আরও বেড়ে যাবে
বাংলাদেশে বড় ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের অভাবের কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ ছয় লাখ ছয় হাজার পাঁচ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলিতে ঋণ খেলাপি আরও বেড়ে যাবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০০৯ সালের ২২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ছয় হাজার পাঁচ কোটি টাকা
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংক শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বদলে ছাড় দেওয়ার নীতিতে আটকে আছে, ফলে খেলাপি ঋণগ্রস্তদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না
- 📌 অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর মনিটরিং না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে
- 📌 বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব বলেছেন, বিদ্যমান আইনে উইলফুল ডিফল্টারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি
- 📌 অর্থঋণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে পাঁচ থেকে সাত বছরের দীর্ঘ সময় লাগে, ফলে ব্যাংকগুলো মামলা করতে খুব একটা আগ্রহী নয়
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে বড় ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের অভাবের কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৯ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে তা ছয় লাখ ছয় হাজার পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলিতে ঋণ খেলাপি আরও বেড়ে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বদলে ছাড় দেওয়ার নীতিতে আটকে আছে। ফলে খেলাপি ঋণগ্রস্তদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর মনিটরিং না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তারা মনে করেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বাঁচাতে নীতি সহায়তার পাশাপাশি কঠোর হওয়ার দৃষ্টান্তও জরুরি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব বলেছেন, “বিদ্যমান আইনে আমরা উইলফুল ডিফল্টারের (স্বেচ্ছায় যারা ঋণ পরিশোধ করে না) ক্ষেত্রে কঠিন পদক্ষেপ এখনো পর্যন্ত নিতে পারিনি, এটা একদম পরিষ্কার।” তিনি আরও বলেছেন, বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা আরও ঋণ গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে।
অর্থঋণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে পাঁচ থেকে সাত বছরের দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে ব্যাংকগুলো নিজেরাই মামলা করতে খুব একটা আগ্রহী হয় না। আর মামলা করলে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন খারাপ দেখানোর বিষয়টিও রয়েছে। বড় খেলাপিরা বেশিরভাগই শিল্প গ্রুপ। তাদের কারখানায় লাখো শ্রমিক, রপ্তানিতে বড় অবদান। সরকার ও ব্যাংক মনে করে, এদের চাপ দিলে কারখানা বন্ধ হবে, বেকারত্ব বাড়বে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান বা ঋণগ্রহীতা শিল্পগোষ্ঠীকে 'বাঁচিয়ে রাখার' নীতিই বারবার নেওয়া হয়।
"আমাদের উইলফুল ডিফল্টারের যে কালচার সেটা ভাঙা খুব সহজ না। খুবই শক্ত হাতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন। কিন্তু এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেরকম শক্ত জায়গায় যায়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মো. আহসান হাবীব (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ছয় লাখ ছয় হাজার পাঁচ কোটি টাকা (খেলাপি ঋণ), ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ (মোট বিতরণকৃত ঋণের শতাংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!