📌 মদিনায় নবীজির আগমনের পর তাওরাতের পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম তাওহিদ গ্রহণ করেন। তিনি নবীজির নুরানী চেহারা দেখে এবং তিনটি জটিল প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেয়ে বিশ্বাসী হন
মদিনায় নবীজির (সা.) আগমনের পর তাওরাতের পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালামের ইসলাম গ্রহণের ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা। মক্কার কোরাইশদের ১৩ বছরের নির্যাতন পেরিয়ে মদিনায় আসা নবীজির (সা.) নুরানী চেহারা দেখে তিনি বিশ্বাসী হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আবদুল্লাহ ইবনে সালাম ছিলেন মদিনার বনু কাইনুকা গোত্রের তাওরাতের পণ্ডিত এবং হিব্রু সাহিত্যে গভীর জ্ঞানের অধিকারী।
- 📌 তিনি নবীজির (সা.) নুরানী চেহারা দেখে এবং তিনটি জটিল প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেয়ে বিশ্বাসী হন।
- 📌 প্রথম প্রশ্নের উত্তর: কিয়ামতের প্রথম আলামত হলো এমন এক আগুন যা পূর্ব থেকে পশ্চিমে মানুষকে এক ময়দানে সমবেত করবে।
- 📌 দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: জান্নাতে প্রবেশের পর মুমিনদের প্রথম খাবার হবে মাছের কলিজার সর্বোৎকৃষ্ট অংশ।
- 📌 তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর: সন্তান পিতামাতার মধ্যে যার বীর্য আগে স্খলিত হয়, সে তার সাদৃশ্য লাভ করে।
- 📌 তিনি নবীজির হাত ধরে উচ্চকণ্ঠে তাওহিদের সাক্ষ্য দেন: ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু’।
- 📌 তিনি নবীজিকে সতর্ক করেন যে, ইহুদিরা তার ইসলাম গ্রহণের খবর শুনলে তার সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ ছড়াবে।
📰 বিস্তারিত
নবুয়তের চতুর্দশ বর্ষে মক্কার কোরাইশদের দীর্ঘ ১৩ বছরের নির্যাতন পেরিয়ে নবীজি (সা.) মদিনায় আসেন। মদিনার প্রতিটি গলিতে মানুষ ছুটে আসছিলেন তাঁকে দেখার জন্য। তাওরাতের পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম তৎকালীন বনু কাইনুকা গোত্রের প্রধান ছিলেন। তিনি তাওরাতের বর্ণনা অনুযায়ী নবীর বৈশিষ্ট্য খুঁজছিলেন। নবীজির নুরানী চেহারা দেখে তিনি বিশ্বাসী হন এবং বলেন, ‘আমি তাঁর চেহারার দিকে তাকাতেই নিশ্চিত হলাম—এটি কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না’।
তিনি নবীজিকে তিনটি জটিল প্রশ্ন করেন, যার উত্তর কেবল আল্লাহর মনোনীত নবীই জানতে পারেন। প্রথম প্রশ্নের উত্তর হিসেবে নবীজি বলেন, কিয়ামতের প্রথম আলামত হলো এমন এক আগুন যা পূর্ব থেকে পশ্চিমে মানুষকে এক ময়দানে সমবেত করবে। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হিসেবে জান্নাতে প্রবেশের পর মুমিনদের প্রথম খাবার হবে মাছের কলিজার সর্বোৎকৃষ্ট অংশ। তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর হিসেবে তিনি বলেন, সন্তান পিতামাতার মধ্যে যার বীর্য আগে স্খলিত হয়, সে তার সাদৃশ্য লাভ করে।
তাওরাতের গোপন সংবাদের সঙ্গে নবীজির উত্তরের মিল দেখে আবদুল্লাহ ইবনে সালামের অন্তরে আর কোনো সংশয় অবশিষ্ট থাকেনি। তিনি নবীজির হাত ধরে উচ্চকণ্ঠে তাওহিদের সাক্ষ্য দেন। তিনি নবীজিকে সতর্ক করেন যে, ইহুদিরা তার ইসলাম গ্রহণের খবর শুনলে তার সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ ছড়াবে।
"আমি তাঁর চেহারার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকাতেই অকাট্যভাবে নিশ্চিত হলাম—এটি কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মদিনা, বনু কাইনুকা গোত্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল্লাহ ইবনে সালাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ বছর (মক্কার নির্যাতন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!