📌 দুর্গাপূজার আগে ভারত থেকে নিয়মিত ইলিশ আমদানি শুরু হয়েছে, যা বাংলাদেশের স্থানীয় ইলিশের চেয়ে স্বাদ ও আকারে কম। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে ভারত থেকে ৪ লাখ ২৭ হাজার কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় ইলিশের দাম কম হলেও স্বাদ ও মান কম। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন কমে যাচ্ছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে পরিণত করছে
দুর্গাপূজার মৌসুমে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা পূরণে ভারত থেকে নিয়মিত আমদানি শুরু হয়েছে, যা স্থানীয় ইলিশের তুলনায় স্বাদ ও আকারে কম মানসম্পন্ন। এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি শুরু হয়। গত বছরে মাত্র ১৭ হাজার ৮৫০ কেজি ইলিশ আসে, কিন্তু চলতি বছরের সাড়ে ৯ মাসে আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার কেজি। ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে আসা ইলিশের বড় অংশ গুজরাটের ভারুচ অঞ্চলের নর্মদা নদীর মোহনায় ধরা হয়। এই ইলিশের স্বাদ কম এবং আকারও ছোট, ফলে দামও কম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারত থেকে ইলিশ আমদানি: গত বছরের জুলাই থেকে শুরু, চলতি বছরের ৯ মাসে ৪ লাখ ২৭ হাজার কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে।
- 📌 স্বাদ ও আকার কম: ভারতীয় ইলিশের স্বাদ বাংলাদেশের তুলনায় কম, আকারও ছোট।
- 📌 দামের পার্থক্য: বিশ্বাস ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার দীপ্ত বিশ্বাস বলেছেন, আমদানি মূল্য ৭৪ থেকে ২৪৭ টাকা কেজি পর্যন্ত।
- 📌 বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন কমে যাচ্ছে: চট্টগ্রামের পটিয়ার মাসুদ ফিশ প্রসেসিং অ্যান্ড আইস কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফ হোসেন মাসুদ বলেছেন, ইলিশ আহরণ কমে যাচ্ছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে পরিণত করছে।
- 📌 মিয়ানমার থেকে নিয়মিত আমদানি: মিয়ানমার থেকে প্রতি বছর ইলিশ আমদানি হয়, গত অর্থবছরে সর্বাধিক ১০ লাখ ২৫ হাজার কেজি আমদানি হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
খুলনার খানজাহান আলী সড়কের বিশ্বাস ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানটি বেনাপোল বন্দর দিয়ে এই বছরে ৬ হাজার ২৩১ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার দীপ্ত বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেছেন, গুজরাট থেকে আসা ইলিশের মান অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, এই ইলিশ আমদানি করলে লোকসান হয়েছে এবং আর আমদানি করবেন না।
ঢাকার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর রুপা এন্টারপ্রাইজ ৭ হাজার ৭২৩ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে ৫৭ টাকা কেজি মূল্যে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি কেজি প্রায় ২০০ টাকা শুল্ক-কর দিয়েছে। অন্যদিকে, বেনাপোলের মেসার্স সততা ফিশ ফিড ২৪ হাজার ৭০০ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে ২৪৭ টাকা কেজি মূল্যে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার শহিদুর রহমান বলেছেন, ইলিশ আমদানি করতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৫০০ টাকা খরচ হয়।
বাংলাদেশের ইলিশ রপ্তানি নীতি অনুযায়ী, ইলিশ শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানিযোগ্য পণ্য। সরকারের অনুমতি নিয়ে প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হয়। তবে, ইলিশ আহরণ কমে যাওয়ায় এই বছর রপ্তানি নিয়ে সংশয় রয়েছে। গত অর্থবছরে ইলিশ রপ্তানি হয়েছিল প্রায় সোয়া লাখ কেজি, আর আমদানি হয়েছিল ১০ লাখ ৬২ হাজার কেজি। চলতি অর্থবছরে এখনো ইলিশ রপ্তানি হয়নি, তবে আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ৯১ হাজার কেজি।
"আগে আমরা ইলিশ রপ্তানি করেছি। এখন আহরণ যেভাবে কমছে, তাতে আমরা নিজেরাই ইলিশ খেতে পারব কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। এখন ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বেনাপোল বন্দর, গুজরাটের ভারুচ অঞ্চল, কলকাতা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দীপ্ত বিশ্বাস, শহিদুর রহমান, আশরাফ হোসেন মাসুদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ লাখ ২৭ হাজার কেজি (আমদানি), ১৭ হাজার ৮৫০ কেজি (গত বছরের আমদানি), ৭৪ থেকে ২৪৭ টাকা (আমদানি মূল্য), ৫৭ টাকা (রুপা এন্টারপ্রাইজের আমদানি মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!