📌 বাংলাদেশে ৩৯টি হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা হলেও বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছে না। অবকাঠামো তৈরি হলেও কার্যকর সহায়তা ও দক্ষ জনবল ঘাটতি প্রধান সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে
১২ সেপ্টেম্বর শনিবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ‘আজকের অ্যাজেন্ডা’ ভার্চুয়াল আলোচনা সিরিজে হাইটেক পার্কের বাস্তব অবস্থা ও প্রত্যাশিত সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে ৩৯টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে তোলা হলেও বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩৯টি হাইটেক পার্ক** গড়ে তোলা হলেও বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছে না, বলেছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এম. রকনুজ্জামান।
- 📌 **৪০টি কোম্পানি** থাকলেও যশোর হাইটেক পার্কে কার্যকর ইকোসিস্টেম সহায়তা নেই, জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম।
- 📌 **দক্ষ জনবল ঘাটতি, দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ ও উচ্চ ইউটিলিটি খরচ** হাইটেক পার্কের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- 📌 **রাজশাহীর প্রযুক্তি উদ্যোগ** বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছলেও পার্কে কোম্পানিগুলোকে মূলত কর অব্যাহতিকেন্দ্রিক সুবিধা পাচ্ছে, বলেছেন নেট্রো সিস্টেমস ও টেলজেনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মো. আশাফুদ্দোজা শিশির।
- 📌 **কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে সহায়ক সেবা না থাকায়** অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের বরাদ্দ ফিরিয়ে দিয়েছে, জানান ইউওয়াই সিস্টেমসের চেয়ারপারসন ফারহানা এ. রহমান।
- 📌 **মাদারবোর্ড ও চিপ ফ্যাব্রিকেশনের মতো মৌলিক প্রযুক্তি উৎপাদনে** গুরুত্ব দেওয়া উচিত, বলেছেন ডিএনএস সফটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফেল কবির।
- 📌 **অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এলাকায় পার্ক স্থাপন** বড় সমস্যা, জানান সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তাইয়েব।
- 📌 **দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য শুধু ভৌত অবকাঠামো নয়, দক্ষ মানবসম্পদ ও সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার** গড়ে তুলতে হবে, বলেছেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান।
📰 বিস্তারিত
পিপিআরসির ‘আজকের অ্যাজেন্ডা’ আলোচনা সিরিজে হাইটেক পার্কের বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এম. রকনুজ্জামান বলেন, শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই প্রযুক্তি বিনিয়োগ আসবে এ ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়নি। তিনি তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
যশোর হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম জানান, পার্কে বর্তমানে ৪০টি কোম্পানি থাকলেও কার্যকর ইকোসিস্টেম সহায়তা নেই। তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোকে উদ্যোক্তা নয়, ভাড়াটে হিসেবে দেখার প্রবণতা, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ ও বেশি ইউটিলিটি খরচ বড় সমস্যা।
রাজশাহীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নেট্রো সিস্টেমস ও টেলজেনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মো. আশাফুদ্দোজা শিশির। তিনি বলেন, রাজশাহীর প্রযুক্তি উদ্যোগগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছালেও হাইটেক পার্কে কোম্পানিগুলোর সুবিধা মূলত কর অব্যাহতিকেন্দ্রিক। স্টার্টআপগুলোর জন্য সরাসরি সহায়তাও সীমিত।
ইউওয়াই সিস্টেমসের চেয়ারপারসন ফারহানা এ. রহমান জানান, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে সহায়ক সেবা না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের বরাদ্দ ফিরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, শুধু কর প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে মাদারবোর্ড ও চিপ ফ্যাব্রিকেশনের মতো মৌলিক প্রযুক্তি উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তাইয়েব বলেন, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এলাকায় পার্ক স্থাপন করাও বড় সমস্যা। তিনি বলেন, বিদ্যমান ইপিজেড ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পার্ক স্থাপনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য শুধু ভৌত অবকাঠামো নয়, দক্ষ মানবসম্পদ, সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও শিল্পচালিত প্রশিক্ষণ গড়ে তুলতে হবে। বক্তারা বলেন, হাইটেক পার্কের মডেল পরিত্যাগ নয়, বরং কার্যকর ইউটিলিটি সুবিধা, জবাবদিহি ও ব্যবসায়িক সহায়তা নিশ্চিত করে নতুনভাবে সাজাতে হবে।
"কোম্পানিগুলোকে শুধু ভাড়াটে নয়, উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করলেই এ খাতে বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর, রাজশাহী, কালিয়াকৈর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. এম. রকনুজ্জামান, মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম, মো. আশাফুদ্দোজা শিশির, ফারহানা এ. রহমান, রফেল কবির, ফয়েজ আহমেদ তাইয়েব, হোসেন জিল্লুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৯টি হাইটেক পার্ক, ৪০টি কোম্পানি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!