📌 দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নীলফামারী ও মাগুরার দুটি সরকারি বস্ত্রকলকে পিপিপি মডেলে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পুনরুজ্জীবিত করার অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ৮ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করা হবে বিদেশে
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি বস্ত্রকলকে পিপিপি মডেলে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস ও মাগুরা টেক্সটাইল মিলসকে যথাক্রমে ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কাছে ৩০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে এবং প্রত্যক্ষভাবে ৮ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পুনরুজ্জীবিত হবে নীলফামারী ও মাগুরার দুটি বন্ধ বস্ত্রকল
- 📌 ৩০ বছরের জন্য ইজারা পাবে ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড (দারোয়ানী) ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ (মাগুরা)
- 📌 ৮ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এই প্রকল্পে
- 📌 ৪০০-৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ মাগুরা টেক্সটাইল মিলসে
- 📌 ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলসে
- 📌 ১৬টি বস্ত্রকল পিপিপি মডেলে চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বিটিএমসি
- 📌 ৩৮ একর জমিতে গড়ে উঠেছিল দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস (১৯৭৭), ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত উৎপাদন করত
- 📌 ৩৯টি দেশে রপ্তানি হয় ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেইডের হস্তপণ্য, জার্মানি অন্যতম
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন (বিটিএমসি) সূত্রে জানা যায়, আগামী মাসের মাঝামাঝি বন্ধ কারখানা দুটি পিপিপিতে চালুর বিষয়ে দুই শিল্পগ্রুপের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে। গত বছরের জুলাইয়ে দারোয়ানী ও মাগুরা টেক্সটাইল মিলস পিপিপিতে চালু করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আগ্রহপত্র আহ্বান করে বিটিএমসি। এরপর আবেদন যাচাই-বাছাই করে ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপকে চূড়ান্ত করা হয়। গত মাসে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয় এই প্রকল্পের জন্য।
বিটিএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা ও পিপিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কাজী ফিরোজ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, “প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টসকে পিপিপিতে ৩০ বছরের জন্য বস্ত্রকল দুটি ইজারা দেওয়া হচ্ছে। তবে মিল দুটির ব্যবস্থাপনায় করপোরেশনের কর্মকর্তাও যুক্ত থাকবেন। মিলের জমি বা সম্পদ যাতে বেহাত না হয়, সেটি তাঁরা তদারকি করবেন। তবে কারখানা পরিচালনা ও হিসাব-নিকাশে করপোরেশনের কোনো যুক্ততা থাকবে না।”
দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলসে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস। এই প্রতিষ্ঠানটি বৈচিত্র্যময় হস্তপণ্য উৎপাদন করে রপ্তানি করবে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে নীলফামারী, বগুড়া ও রংপুরে ছয়টি কারখানা রয়েছে এবং ৩ হাজার ৩০০ কর্মী কর্মরত। গত অর্থবছর ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের হস্তপণ্য রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাগুরা টেক্সটাইল মিলসে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ৪০০-৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। বিটিএমসি ১৬টি বস্ত্রকলকে পিপিপি মডেলে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন পর্যন্ত চারটি বস্ত্রকল বেসরকারি অংশীদারদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আরও চারটি বস্ত্রকল বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে করপোরেশন।
"দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলসে আমরা একটি পরিপূর্ণ ক্রাফট ভিলেজ তৈরির পরিকল্পনা করছি। সেখানে কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত, পণ্য উৎপাদন ও পণ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। কারখানা হবে পরিবেশবান্ধব। পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া চলবে সৌরবিদ্যুতে। পরিকল্পনামাফিক সব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারলে বছরে ৬ কোটি ডলারের হস্তপণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে এই কারখানা থেকে।"
— মো. তৌহিদ বিন আবদুস সালাম, ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টসের স্বত্বাধিকারী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নীলফামারী (দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস), মাগুরা (মাগুরা টেক্সটাইল মিলস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী ফিরোজ হোসেন (বিটিএমসি), মো. তৌহিদ বিন আবদুস সালাম (ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০০ কোটি টাকা (বিনিয়োগ), ৩০ বছর (ইজারা), ৮ হাজার (কর্মসংস্থান), ৩৮ একর (দারোয়ানী মিলসের জমি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!