📌 স্পেনের মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস তৃতীয়বারের মতো মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। বাবাকে হারানোর বেদনা ও গুরুতর চোটের পরেও তিনি ফুটবল বিশ্বে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। ২০২৬ সালে লন্ডন সিটি লায়নেসেসে যোগ দিয়েও তিনি বিশ্বের সেরা নারী ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন
স্পেনের মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস তৃতীয়বারের মতো মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। এই সাফল্য পেয়েছেন তিনি বাবাকে হারানোর বেদনা ও গুরুতর চোটের পরেও। ৩২ বছর বয়সে তিনি নতুন ক্লাব লন্ডন সিটি লায়নেসেসে যোগ দিয়েও বিশ্ব ফুটবলে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর**: ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস মেয়েদের বিভাগে সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন। এতে তিনি আইতানা বোনমাতির সঙ্গে রেকর্ড ভাগ করে নেন — দুজনেরই এই পুরস্কার জয়ের সংখ্যা এখন তিনটি।
- 📌 **বাবার অনুপস্থিতি ও শোকের যুদ্ধ**: ২০১২ সালে বাবা জাউমের মৃত্যুর পরও তিনি স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন। বাবাকে হারানোর মাত্র দুই সপ্তাহ পর তিনি দলকে নেতৃত্ব দেন।
- 📌 **গুরুতর চোটের পর ফিরে আসা**: ২০২২ সালের জুলাইয়ে বাঁ হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্টে চোট পান তিনি। দীর্ঘ ১০ মাসের পুনর্বাসনের পর ২০২৩ সালে আবার মাঠে ফিরেন।
- 📌 **বার্সেলোনার সাফল্য**: ২০১২ সালে বার্সেলোনার নারী দলে যোগ দেন তিনি। ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ২৩২ গোল করেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সাতটি গোল ও সাতটি গোল সহায়তা করেন।
- 📌 **নতুন ক্লাবে নতুন চ্যালেঞ্জ**: ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের লন্ডন সিটি লায়নেসেসে যোগ দেন তিনি। নতুন ক্লাবেও তিনি মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
১৯৯৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি স্পেনের কাতালোনিয়ার মলেত দেল ভায়েস শহরে জন্মগ্রহণ করেন অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। শৈশব থেকেই তিনি ফুটবলের প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছেন। ছোটবেলায় বার্সেলোনার সমর্থক হিসেবে তিনি রিভালদো, রোনালদিনিও, স্যামুয়েল ইতোর মতো তারকাদের খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হতেন। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে তিনি ২০১২ সালে ১৮ বছর বয়সে লেভান্তে থেকে বার্সেলোনার নারী দলে যোগ দেন।
পুতেয়াসের জীবনে সবচেয়ে কঠিন সময়ের একটি ছিল ২০১২ সালে বাবা জাউমের মৃত্যু। বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর। এই শোকের মধ্যেই তিনি স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন। বাবাকে হারানোর মাত্র দুই সপ্তাহ পর তিনি দলকে নেতৃত্ব দেন। ফাইনালে উঠলেও সুইডেনের কাছে হেরে যান। বাবার মৃত্যু তাঁর জীবনে গভীর ছাপ ফেলে।
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতার পর তিনি পুরস্কার গ্রহণের বক্তব্যে বাবাকে স্মরণ করেন। বলেছিলেন, তাঁর বাবা তাঁকে নিয়ে গর্বিত থাকেন। ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুবার এই পুরস্কার জিতেও তিনি চোটের শিকার হন। ২০২২ সালের জুলাইয়ে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের আগে বাঁ হাঁটুর চোটে দীর্ঘ ১০ মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে মাঠে ফিরে তিনি ধীরে ধীরে ফিটনেস ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনেন। ২০২৩ সালে স্পেন নারী ফুটবল বিশ্বকাপ জেতার সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২৪ সালের নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে গোল করে দলের শিরোপা জয়ে অবদান রাখেন।
"আশা করি, বাবা আমাকে নিয়ে গর্বিত ছিলেন। সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও তাঁর অনুপস্থিতি আমাকে নাড়া দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন (ইংল্যান্ড), কাতালোনিয়া (স্পেন), বার্সেলোনা (স্পেন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ বছর বয়স, ৪ ফেব্রুয়ারি (জন্ম তারিখ), ১৮ বছর বয়সে বার্সেলোনায় যোগদান, ১০ মাস পুনর্বাসন, ২৩২ গোল, ২৬ অক্টোবর (ব্যালন ডি’অর জয়ের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!