📌 ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় ২০টি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। উৎপাদন গড়ে ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তিতাস গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে
ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় অন্তত ২০টি কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে শ্রমিকদের ছুটি প্রদান করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন গড়ে ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকটে ২০টি কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে
- 📌 উৎপাদন গড়ে ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ায় কারখানাগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি
- 📌 তিতাস গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসের চাপ নেমে এসেছে ১১-১২ পিএসআইয়ে
- 📌 ভালুকা এলাকায় ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের লাইনে সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ৩০-৫০ পিএসআইয়ে
- 📌 টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় অন্তত ২০টি কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন গড়ে ৫০ শতাংশ কমে গেছে। দুপুরের খাবারের সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হয়েছে।
শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন জানান, ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি গ্যাসচালিত। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি গ্যাসচালিত কারখানাই সংকটে পড়েছে। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির কারখানাগুলো। ভালুকা এলাকার গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টি বন্ধ রাখতে হয়েছে। বাকি সাতটি মেশিন পিডিবির বিদ্যুৎ দিয়ে চালানো হচ্ছে। ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসের ৩০টি মেশিন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমেছে।
শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল জানান, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। সাধারণত কারখানাগুলো বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরের খাবারের সময় মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল, বিএসপি স্পিনিং মিলসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে।
"ভালুকা এলাকায় ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে তাঁরা ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস পাচ্ছেন।"
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন জানান, সরবরাহ কম পাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। ভালুকা এলাকায় গ্যাস সরবরাহের দুটি লাইনে বর্তমানে চাপ দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৫০ পিএসআইয়ে।
ভালুকা এলাকার গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদ জানান, প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম। কারখানাটিতে গ্যাসের চাপ ১৫ পিএসআই প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১ থেকে ১২ পিএসআই। এতে উৎপাদন ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনছার উদ্দিন, গোপীনাথ কাঞ্জিলাল, শামীম হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি কারখানা, ৫০ শতাংশ উৎপাদন হ্রাস, ২৯৩টি কারখানা, ৯৯টি গ্যাসচালিত কারখানা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!